উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত বেশিরভাগ প্রার্থীরাই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করে ‘উন্নত-সমৃদ্ধ’ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখানো শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার প্রধান হওয়ার অনন্য নজির গড়েছেন। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ দিয়েছেন দলের নেতাকর্মীদের।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান দলটি। এরই মধ্যে মন্ত্রীরা তাদের দফতরের কাজ শুরু করেছেন। জনসাধারণের সঙ্গে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে। নতুন সরকারের শুরু থেকেই সড়কপথের উন্নয়ন ও নদীভাঙন রোধ করার প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

অর্থনৈতিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর দৃষ্টি রাখছে। উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে জনসম্মুখে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ গুরুত্ব দিয়েছিল অর্থনৈতিক অগ্রগতির উপর। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গ্রামাঞ্চলে উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিভেদ ঘোচানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়, এ তালিকায় রয়েছে ১০টি প্রকল্প। এর মধ্যে অন্যতম হলো পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আলট্রা সুপার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, ঢাকা ম্যাস র?্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল প্রকল্প), পদ্মা সেতু, রেলসংযোগ, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছাকাছি গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন দ্বৈতগেজ রেলপথ, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প।

এই প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার ইচ্ছায় নতুন সরকার কাজ চলমান রেখেছেন। প্রকল্পে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তাগিদ দিচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০২১ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ এর ঘরে নিতে চান আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। শপথের পরই থেকেই ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মহাজোটের নেতৃত্বাধীন যে সব প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে তাদের মধ্যে তরুণদের ভ‚মিকা হচ্ছে বলিষ্ঠ। এবারের মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজন তরুণ নেতা আছে। নতুন সরকারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণের পর থেকেই নিজ বিভাগের কাজের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

এরই মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আগামী ১০০ দিনের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে যা রয়েছে তা হলো- সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষিত কার্যক্রমের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবাসপ্তাহ উদযাপন করা হবে, যেসব নতুন প্রকল্পগুলোর ডিপিপি প্রস্তুত হয়েছে সেসবের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পর পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে, মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের তদারকি প্রক্রিয়া চালু করে যন্ত্রপাতি, জনবল কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি তদারকি করা হবে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করবেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমগুলো পরিদর্শনের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে সফর করবেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিভিন্ন পদে ইতিপূর্বে গৃহীত পদোন্নতি প্রক্রিয়া শেষ করা হবে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে যথাযথ প্রচারণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে, সব হাসপাতালে সহজে দৃশ্যমান সাইনবোর্ডসহ নিয়ন সাইন এর সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে, প্রতিটি হাসপাতালে প্রদেয় সেবা এবং গ্রহণ করা বিভিন্ন ইউজার চার্চের তালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন নিশ্চিত করা হবে, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতারা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, সেসব সমস্যা এবং তার সমাধান বিষয়ে সেবা গ্রহণকারীদের পরামর্শের জন্য ওয়েবসাইটে অভিযোগ কর্নার চালু করা হবে ও হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য জিপ গাড়ি দেয়া হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেছেন, পদ্মা সেতুর আশপাশেই বঙ্গবন্ধু বিমানবন্দর স্থাপন করা হবে। এটা মন্ত্রণালয়ের চ্যালেঞ্জিং। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জায়গা চ‚ড়ান্ত হয়েছে। পদ্মা ব্রিজের আশপাশে হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দর হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কেন্দ্রবিন্দু। সিভিল এভিয়েশন ক্যাটাগরি ওয়ান হওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মার্চে আসবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি। তাদের সনদ পেলে চালু হবে নিউইয়র্ক ফ্লাইট।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে স্থানীয় জনগণের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে। এ ছাড়াও দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ তথা অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প অব্যাহত আছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নানামুখী নতুন প্রকল্প নেয়া ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তের কাজ চলছে। শনাক্ত হওয়ার পর এগুলো ভেঙে ফেলা হবে। প্রথমে এ ভবনগুলো ভাঙার জন্য মালিকদের অনুরোধ করা হবে। তারা নিজেরা না ভাঙলে সরকারের পক্ষ থেকে ভেঙে ফেলা হবে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের ক্ষেত্রে আদালতে ৮ হাজার মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা আইন অমান্য করে কিছু করতে চাই না। আবার ঠুনকো বিষয়ে আইনের অজুহাতে কোনো কিছু থেমে থাকবে না। মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ, দুর্যোগ আসবেই। সেই দুর্যোগ মোকাবিলা করে যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু ঠেকাতে হবে।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, নদীভাঙন রোধ আগে করব। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের প্রতিটা ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বসে কোথায় কোথায় কী সমস্যা আছে তা দেখে সংকট নির্ণয় করতে হবে। আপনি জানেন ৫৭টা নদী আছে ৫৪টা ভারতের সঙ্গে ৩টা মিয়ানমারের সেই বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও কাজ করার বিষয় আছে। তিস্তা আছে। তাই যে কাজগুলো আগে করার দরকার তাই করব।
আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর মানবকণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগ তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর থেকে মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু করে দিয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছে আমাদের নেত্রী। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কাজ চলছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সরকারের কাছে প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে। পাঁচ বছর, দশ বছরে ও তার চেয়ে বেশি বছরের পরিকল্পনা আছে। ডেল্টাপ্ল্যানও আছে। বাংলাদেশের রাজনীতির বিশেষ দিক হলো, শুধু পাঁচ বছরের না, তারপরের পাঁচ বছরে কী হবে সেই পরিকল্পনাও ডেল্টাপ্ল্যানে আছে। ২০৪১ সালে কী হবে এবং ২১ শতকে কী হবে তাও আছে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে। ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে সরকার।

মানবকণ্ঠ/এএম