উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সামনে এখন অনেক মাইলস্টোন। একটি মাইলস্টোনের গল্প একেক রকম। জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণ জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পরিচালনাধীন সময়ের মাইলফলকের ইশতেহারগুলো পুনরায় পাঠ করে নিতে পারেন। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৪৫ বছরে যত মাইলস্টোন প্রোথিত হয়েছে, গত নয় বছরের হিসেবে অতীতের মাইলস্টোনগুলোকে ম্লান করে সাম্প্রতিক কালের মাইলফলকগুলো গর্বে, অহংকারে, দেশপ্রেমে, ইতিহাস রচনায়, সৃষ্টি করেছে অনন্য রেকর্ড।

২০০৮ সালে ওয়ান ইলেভেনের সব অরাজকতা পাশে রেখে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অভাবনীয় সাফল্যের সুবাতাস বুকে ধারণ করে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আরোহণ করে, সেই তখন থেকেই এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা সরকারের সব রন্ধ্রে অনুপ্রবেশ ঘটাতে সক্ষম হন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং এক এক করে তিনি সোনার মুকুটে গাঁথতে থাকেন সাফল্যের রূপালী পালক। যার প্রথমেই ছিল নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পাওয়া যুদ্ধাপরাধীদের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন। বাংলাদেশের মানুষ প্রথমে বিচার প্রসঙ্গে ছিলেন কনফিউজ্ড। গণমাধ্যমও ছিল ঘোরের মধ্যে। তারা প্রকৃত অর্থে নির্ণয় করতে পারছিল না কী হতে যাচ্ছে। কিন্তু বিচার কার্যক্রমের বিষয়টি নিয়ে অবিচল আস্থা আর প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিচার প্রক্রিয়াটি শুরুর নির্দেশ আসে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কমিটমেন্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। দেশি-বিদেশি সব চাপ উপেক্ষা করে আদালতের রায়ও কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস ’৭১-এর ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রমের ইতিহাস বিকৃতকারীদের সব দম্ভ, অহমিকা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশকে কলঙ্ক মোচনের দায় কাঁধে তুলে নিয়ে একটি একটি করে সত্যের বিলবোর্ড ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন স্ব-রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, দক্ষতা এবং স্বমহিমায়।

একইসঙ্গে দেশকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সমান্তরালে নিয়ে আসার লক্ষ্যে ডিজিটাল তথা প্রযুক্তির অনুকূলে নিয়ে আসার সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং ২০২১ সালের মধ্যে যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা, সেটি ২০১৯-এর মধ্যেই সুসম্পন্ন করে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের স্বপ্নের সফলতাকে এখন দোরগোড়ায় নিয়ে আসার শেষ সীমায় এসে দাঁড়িয়েছে। এরপর অর্থনীতিকে এমন এক ভিত্তি প্রদান করেছেন। যার নিমিত্তে দেশে দারিদ্র্যের হার একটা সহনীয় পর্যায়ে থাকে। মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ১৮,০০০ মেগাওয়াটের উৎপাদন মাত্রা স্পর্শ করেছে। শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিকল্পিত পরিবার, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, ৬-এর উপরে প্রবৃদ্ধির হার, কৃষি পণ্যের মজুদ চাহিদার নির্দিষ্ট রেখা অতিক্রম করে বর্তমানে বিদেশে রফতানি হচ্ছে। পোশাক খাতে বৈপ্লবিক সাফল্যের সূত্র ধরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন।

রেমিট্যান্সও অভূতপূর্ব রেকর্ডের মাইলস্টোনগুলো গত নয় বছরে এতটাই আলো ছড়াচ্ছিল যার উজ্জ্বলতার ছোঁয়াটি লাগে বিশ্ব দরবারেও। এ প্রসঙ্গে প্রথমেই ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বিশাল সমুদ্র বিজয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্ব রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অন্য একমাত্রা যুক্ত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের দরুন ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে (বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত দেশ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের জোরালো অবস্থান বাংলাদেশের সুনাম আরো বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে চলতে থাকে দেশি বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র, কূটচাল। এর মধ্যে প্রথমেই সরকারকে এক অবিশ্বাস্য অপবাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ।

অর্থ ছাড় দেয়ার আগেই দুর্নীতির গল্প ফেঁদে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে বিশ্বমোড়ল বিশ্বব্যাংক এবং তাদের ক্রীড়নকেরা। কিন্তু গণতন্ত্রের মানসকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন, যা এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অপেক্ষায়। বিশ্বব্যাংকসহ যে সব অর্থনৈতিক সংস্থা অর্থঋণ প্রদানের কথা তারা তাদের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নেয় তথাকথিত দুর্নীতির অজুহাত দেখিয়ে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যার রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস আর দেশপ্রেম তার ললাটে এঁকে দেয় সাফল্যের রাজচিহ্ন।

এবং মহাসমারোহে নিজস্ব অর্থায়নে আজ পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে যা দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প হিসেবে পরিগণিত এবং ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় বিশ্বের দরবারে এক বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে মাইলফলকের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্যের হাইওয়েতে এরই মধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের শীর্ষ চিন্তাবিদের শীর্ষ দশে স্থান করে নিয়েছেন। জঙ্গিবাদ নির্মূলে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন দেশের সুনাম দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের মানুষ যে ভালো থাকে বর্তমান সময় তার উজ্জ্বল প্রমাণ ।

মধ্যম আয়ের দেশে বাংলাদেশ উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি- মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর উৎক্ষেপণ এক অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই সরকারের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকলে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজনীতি ও গণতান্ত্রিক ধারাও থাকবে সুষ্ঠু প্রবাহে প্রবাহিত। যদিও ইতোমধ্যে একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে নানা কূটচালে এক মঞ্চে সমবেত হয়েছে। এসব কূটচাল ছুড়ে ফেলে দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সাফল্যের আরো মাইলস্টোন ছুঁয়ে ছুঁয়ে বিশ্বাসীকে অবাক করে দিয়ে।- লেখক : আইনজীবী, রাজনীতিক

মানবকণ্ঠ/এএএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.