উদ্বোধনের অপেক্ষায় চট্টগ্রামের মদুনাঘাট পানি শোধনাগার

মো. মুছা খালেদ, চট্টগ্রাম:
উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার মদুনাঘাট পানি শোধনাগার। ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে পানি শোধনাগারটি মূল কাজ। এখন চলছে প্রেসার টেস্ট (চাপ পরীক্ষা) ও পাইপ লাইন পরিষ্কারের (ফ্লাশিং) কাজ। এসব কাজ সম্পন্ন হলে চলতি মাসে এ শোধানাগারের উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এটি পরিপূর্ণভাবে চালু শুরু হলে চট্টগ্রাম ওয়াসায় নতুন করে প্রতিদিন যুক্ত হবে ৯ কোটি লিটার পানি। এতে চট্টগ্রাম নগরীর বিশাল এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হালদা নদী থেকে পানি উত্তোলনের পর পরিশোধন করে নগরীতে সরবরাহ করা। বিশেষ করে নগরীর উত্তর-পূর্ব অংশ বৃহত্তর বাকলিয়া, মোহরা, চান্দগাঁও, কালামিয়া বাজার, কল্পলোক আবাসিক, রাহাত্তারপুল, খাতুনগঞ্জ, খাজা রোড, ডিসি রোড, সিরাজ-উদ দৌল্লা সড়কের পূর্ব অংশ এবং পতেঙ্গা এলাকায় পানি সরবরাহ করা হবে। দীর্ঘদিন থেকে এসব এলাকায় কিছু অংশে ওয়াসার সংযোগ থাকলেও সপ্তাহে মাত্র দুই-তিন দিন সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ করা হতো। প্রকল্পটি চালু হলে এসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি সরবরাহ সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাংক, সরকার ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ অর্থায়নে ২০১১ সালে মদুনাঘাট পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করা হয়। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি শুরু হয় এ প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। তার মধ্যে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করে ১ হাজার ৪৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার ৩৭০ কোটি ৩৭ লাখ ও চট্টগ্রাম ওয়াসা ২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা অর্থায়ন করে। এছাড়া মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপ লাইন স্থাপনা করা হয়। তাছাড়া চট্টগ্রাম শহরে স্থাপন করা হয় আরো ১২৪ কিলোমিটার পাইপ লাইন। বর্তমানে এসব পাইপ লাইনের প্রেসার টেস্ট (চাপ পরীক্ষা) চলছে। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ অংশের প্রেসার টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এখন মদুনাঘাট থেকে কালুঘাট পর্যন্ত পাইপ লাইনের ফ্লাশিং টেস্ট চলছে। ফ্লাশিং টেস্ট করে পুরো পাইপ লাইনকে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এসব কাজ চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এরপর চলতি মাসেই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। এ মাসেই মদুনাঘাট প্রকল্প থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার পানি শহরে আসবে। আর তাতে চট্টগ্রাম নগরীর ৭০ শতাংশ পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের ফ্রেজ-২ এর কাজও শেষের দিকে। ওই প্রকল্পটি চালু হলে চট্টগ্রাম শহরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২৪ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেল বলেন, প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। টুকটাক কিছু কাজ হয়তো এখনো চলছে। প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলেই পানির পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, প্রকল্পটি চালু হলে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে মদুনাঘাট পানি শোধনাগার প্রকল্পের পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের প্রধান কাজগুলো শেষ। এখন চলছে পাইপ লাইনের প্রেসার টেস্ট। কোথাও কোথাও ফ্লাশিংয়ের কাজ চলছে। ফ্লাশিংয়ের মাধ্যমে পুরো লাইনে নেটওয়ার্ককে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ কিছু ছোট ছোট কাজ চলমান আছে। আমাদের চেষ্টা রয়েছে চলতি মাসের মধ্যেই এসব কাজ সম্পন্ন করার। কাজগুলো শেষ হলেই যে কোনো সময় তা উদ্বোধন করা হবে। এরপর এটি উৎপাদনে যাবে। প্রকল্প চালুর পর ওয়াসার পানি উৎপাদন বাড়বে দৈনিক আরো ৯ কোটি লিটার।