উদাসীন আওয়ামী লীগ

গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ মধ্যদিয়ে সারাদেশে শুরু হয়েছে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এরই মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনও শেষ হয়েছে। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনের মোট পাঁচটি ধাপের চারটিতেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলমান উপজেলা নির্বাচন বিরোধীদলের নেতাকর্মী অংশ না নেয়া এই নির্বাচন নিয়ে কিছুটা উদাসীন রয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদকের অসুস্থতাই যেন কেন্দ্রীয় নেতাদের উদাসীনতা লক্ষণীয়। ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর কিংবা নমনীয় হুঁশিয়ারি করলেও তার অসুস্থতার পর থেকেই দলের পক্ষ থেকে কাউকে কথা বলতে দেখা যায়নি। একাধিক বিদ্রোহীদের কারণে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী। তারা বলছে বিদ্রোহীদের প্রতি নমনীয়তা দেখালেও নৌকা প্রতীকের জয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে কেন্দ্রীয় নেতারা। যার কারণে দলটির নৌকা প্রতীকের ১১০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনাভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছে।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্ট নেতারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। শুধু তারাই নয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। বিশেষ করে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও প্রথম ধাপে বেশ কয়েকটি স্থানে দলটির তৃণমূল নেতারা অংশগ্রহণ করেন। এরপর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নড়েচড়ে বসেন বিএনপি নেতারা। বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের জন্য ১২১ জন দলীয় নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন তারা। বহিষ্কারের পরবর্তীতে তারা আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। ইতোমধ্যে অনেক স্থানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কারণে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রথম থেকেই দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতি অনেকটাই নমনীয় ভূমিকা পালন করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীর কোনো পক্ষ না নেয়ার জন্য কেন্দ্র থেকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ১২২টি উপজেলায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গত বুধবার। চতুর্থ ধাপের এ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছে ৪০ জন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী।

এর আগে প্রথম ধাপের বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ১৫ জন। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে একই অবস্থা দেখায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে। ওই দুই ধাপে ৫৫ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। আ.লীগ তথ্যমতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপিবিহীন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে চাইলেও ভিন্ন রূপ দেখা দিয়েছে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। তারা বলছে- নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে কেন্দ্র থেকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেক নেতারা বিদ্রোহী না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা করছে। এমনকি স্থানীয় এমপি ও ওইসব নেতারা প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব করে বিদ্রোহী না করার নির্দেশ প্রদান করছেন। যার কারণে সাধারণ নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রয়েছে। আর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে এককভাবে জয়লাভ করানোর জন্য একটু ভিন্ন কৌশলেই কাজ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা। তারা ভোটের মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী না রাখার ও নৌকার জয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। যার ফলে প্রথম ধাপের চেয়ে পরবর্তী ধাপগুলোতে বিনা ভোটে জয়লাভ করছে অনেক প্রার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের এক নেতা বলেন, এবার উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করেছিলাম। দল আমাকে দেয়নি। কারণ আমার এলাকার এমপি চায়না যে আমি নৌকা প্রতীক পাই। শুধু তাই নয়, তার নিকটবর্তী আত্মীয় কে সে মনোনয়ন নিয়ে দিয়েছে। এখন সেই প্রার্থীকে জয়লাভ করার জন্য বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে আমাদের বসিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা খুব দুঃখজনক। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবার ৪৮১টি উপজেলায় মোট পাঁচ ধাপে নির্বাচন হচ্ছে। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০ মার্চ। দ্বিতীয় ধাপে ভোট ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ এবং চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ। এ ছাড়া পঞ্চম ধাপের ভোট গ্রহণ করা হতে পারে পবিত্র রমজানের পর।

মানবকণ্ঠ/এআর