উত্তরপত্র বাজারে বেচে দেয়া শিক্ষক বহাল তবিয়তে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম কর্তৃক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির বার্ষিক পরিক্ষার উত্তরপত্র এবং সমাপনী মডেল টেস্টের উত্তরপত্রের খাতা মূল্যায়ন না করে বাজারে বিক্রির অভিযোগের তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় মামলা দায়ের। মামলার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অদৃশ্য শক্তির জোরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। কর্তৃপক্ষের এহেন কর্মকান্ডে সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ৩য় শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ৯৬টি উত্তরপত্র এবং সমাপনী মডেল টেস্ট পরীক্ষার ১০টি উত্তরপত্র মূল্যায়ন না হতেই বাজারে বিক্রয় করেন। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিক্রয়ের পরের দিন ১৪.১২.২০১৬ তারিখে খুব ভোরে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় সই করে তৎকালীন সভাপতি যিনি সম্পর্কে তার মামা। তাকে সঙ্গে করে বিক্রির দোকান থেকে নিজের স্বাক্ষরকৃত খাতা উদ্ধার করে অপর সহকারী শিক্ষক আনোয়ারকে ফাঁসাতে টিইও, এটিও এবং সাংবাদিক ডেকে অভিযোগ করেন। পরে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেনকে শোকজ করেন এবং এ বিষয় নিয়ে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে গত ০১.০১.২০১৭ তারিখে উপ-পরিচালক রংপুর তদন্তের নির্দেশনা দেন। তদন্ত না করে তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করেন। এ বিষয়ে গত ২৫.০১.২০১৭ তারিখে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন উপ-পরিচালকের দপ্তরে লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষক জড়িত না বলে জানান এবং এর প্রেক্ষিতে উপ-পরিচালক রংপুর পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। পরে সহকারী শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান তদন্ত করেন। কিন্তু দুই মাস অতিবাহিত করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোকছেদুর রহমান ও মুকুল চন্দ্র এটিইওকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তারা তদন্ত করার চিঠি প্রদান করেন। কিন্তু তারাও তদন্ত করেননি। পরে অপর দুই এটিইও তদন্ত করেন এবং প্রতিবেদন জমা দেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তদন্ত রিপোর্ট উপ-পরিচালক রংপুরের নিকট প্রেরণ করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এরপর দীর্ঘ ১ বছর অতিবাহিত হলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কুড়িগ্রাম অদৃশ্য কারণে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ ব্যাপারে বিভিন্ন মিডিয়ায় অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতেও টনক নড়ছে না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন- বিষয়টি শুনানিতে আছে। শুনানি শেষে যে দোষী সাব্যস্ত হবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।