ঈদের পরেও মুখর বিনোদন কেন্দ্র

ঈদের পরে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে। ঢাকা শহর ফাঁকা থাকলেও শিশুপার্কের সামনের এলাকায় যানবাহনের কিছুটা ভিড় দেখা গেছে। শাহবাগের শিশুপার্ক লোকারণ্য।
হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর শিশুপার্ক। বিভিন্ন রাইডে চড়ে সময় কাটাচ্ছে শিশুরা। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশুরা দখল করে নেয় শিশুপার্কগুলো। ঘূর্ণিচরকি, যুদ্ধবিমান, ট্রেন সবই চড়তে হচ্ছিল দীর্ঘ লাইন দিয়ে। অপেক্ষা সইতে না পেরে কাউকে কাউকে কাঁদতেও দেখা গেছে। ধানমন্ডি থেকে তিন শিশুসন্তানকে নিয়ে শিশুপার্কে এসেছেন ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, তার মতো অনেকে শিশুদের নিয়ে গরমের মধ্যে অপেক্ষা করছিল রাইডের জন্য। তার পরও শিশুদের মুখে ছিল না ক্লান্তির ছাপ।
শ্যামলী ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ডের (সাবেক শিশুমেলা) চিত্রও ছিল একই রকম। আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, ওয়াটার কিংডম, এক্সট্রিম রেসিং গো কার্ট, মোটেল আটলান্টিস- এই চারটি বিনোদন কেন্দ্রেও প্রচন্ড ভিড়। জাতীয় জাদুঘরে ও মিরপুর চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী ছিল সবচেয়ে বেশি। এখানে বন্য পশুপাখির বিচিত্র সব কান্ড কারখানা দেখে আনন্দে সময় কাটান বিভিন্ন বয়সী মানুষ। চিড়িয়াখানার পাশে জাতীয় উদ্যান নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর।
রাজধানীর সড়কগুলো এখন ফাঁকা। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নান্দনিক স্থাপনা হাতরিঝিলেও ভিড় করেছেন অনেক মানুষ। কেউ যুগলবন্দী হয়ে পরস্পরের হাত ধরে, কেউ পরিবারের সাথে ঘুরছে হাতিরঝিল। বন্ধুরাও জুটেছে দলবেঁধে। রাজধানীবাসীর ঘুরতে যাওয়ার পছন্দের স্থান এখন এই বিনোদন কেন্দ্র। পরিচ্ছন্ন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আকর্ষণ করে ঈদমুখর মানুষকে।
ঈদ উপলক্ষে হাতিরঝিলে চলছে ঈদ প্যাকেজ। ৬০ টাকাতেই ওয়াটার বাসে ঘোরা যাচ্ছে ঝিল। মগবাজার থেকে স্ত্রী-কন্যাসহ হাতিরঝিলে এসেছেন রবিউল হাসান। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাতে নগরীর বেশির ভাগ মানুষের গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই বিনোদন কেন্দ্র। দুপুরের আগেই টইটম্বর হয়ে যায় পুরো এলাকা। বিকেলেই এসেছি পরিবার পরিজন নিয়ে। শেষ বিকেলের আলোয় ছবি তুলছি আর প্রকৃতি দেখছি। আমার মেয়ের খুব ভালো লেগেছে হাতিরঝিলের বিশেষ আকর্ষণ ওয়াটার বাসে চড়ে। আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্কেও ছিল ভিড়। – নগরে নাগরিক ডেস্ক