ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে অগণিত পর্যটকের পদভারে মুখরিত কুয়াকাটা। ভ্রমণ পিপাসুদের বিচরণে সুর্যোদয়-সূর্যাস্তের বেলাভূমিখ্যাত সাগরকন্যা কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কুয়াকাটার রাখাইন মার্কেট, ঝিনুক শপ, রেস্তোরাঁ, চটপটি, ফুচকা, ভুট্টা, বাদাম বিক্রির ভাসমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে বিকিকিনির ধুম।
সরেজমিন দেখা যায়, কুয়াকাটার জাতীয় উদ্যান, ইলিশ পার্ক, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার, সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চলখ্যাত ফাতরার বনাঞ্চল, ফকির হাট, গঙ্গামতি, কাউয়ার চর, লেম্বুর চর, শুঁটকি পল্লী ও কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট এখন শিশু, কিশোর, যুবক, যুবতীসহ নানা বয়সী পর্যটকদের পদচারণে মুখরিত। কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা নানা বয়সী পর্যটকরা তাদের স্মার্ট ফোনে কুয়াকাটার সেলফি ও ভিডিও ক্লিপস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।
ঈদের ছুটিতে খুলনা থেকে ভ্রমণে আসা দম্পতি মনজুরুল হোসাইন ও শম্পা জানান, সন্ধ্যার পর সৈকতের বেঞ্চে বসে রাতের সমুদ্র ও তার গর্জন অসাধারণ লাগে। কুয়াকাটার দর্শনীয় স্পটগুলোর অপরূপ দৃশ্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে দেখেছি। তবে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ছেলেমেয়েরা হোটেলে একটু অস্বস্তি বোধ করেছে। এ ছাড়া কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কের পাখীমারা থেকে আলীপুর ১০ কিলোমিটার অংশের ভয়াবহ অবস্থা, যা কুয়াকাটার উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
কুয়াকাটা ইলিশ পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ভিড় রয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ বিনোদন নিশ্চিত করতে।’
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব শরিফ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল নেমেছে। ঈদের পরদিন থেকে কুয়াকাটায় আগাম বুকিং অনুযায়ী পর্যটক রয়েছে।’
মহিপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে কুয়াকাটায় পর্যটকের একটু চাপ রয়েছে। নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌপুলিশসহ মহিপুর থানা পুলিশ কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানে টহল জোরদার করেছে।’