ইসি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায় কিনা সন্দেহ দেখা দিয়েছে: ফখরুল

ইসি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায় কিনা সন্দেহ দেখা দিয়েছে: ফখরুল

গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে আদৌ বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ২৭৯ জনের সাক্ষাতকার শেষে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আসলে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায় কিনা সে ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরেও পুলিশ একইভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং হয়রানি করছে। একইভাবে জামিনের জন্য যারা যাচ্ছেন এবং যারা জামিন পেয়েছেন তাদের জামিনকে বিলম্বিত করা হচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, নির্বাচন কমিশন যদি একটা সমতল ভূমি তৈরি না করে, পুলিশের এই গ্রেফতার ও নির্যাতন বন্ধ না করে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ না করে তাহলে এই নির্বাচন জনগণের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দেখেছি অতীতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে পুলিশ যে ভূমিকা পালন করেছে তা ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমরা আবারো খবর পাচ্ছি বিশ্বস্ত সূত্রগুলোতে যে, পুলিশকে দিয়ে আবারো নির্বাচনে কারচুপি করার নীলনকশা তৈরি করা হচ্ছে। যে কর্মকর্তা পুলিশের সদর দফতরে বসে পরিকল্পনা করেছিলেন সেই একই পুলিশ কর্মকর্তা আবারো হেডকোয়াটারে বসে নীলনকশা তৈরি করছেন যে কীভাবে নির্বাচনকে সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়ে আসতে হবে এবং কারচুপি করা যাবে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে পুলিশ সদর দফতর থেকে বদলি করে দেয়া অথবা ক্লোজড করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, নির্বাচন কমিশন যাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছেন এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ করার জন্যে, নির্বাচনের জন্য একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্যে এর কোনোটাই তারা (ইসি) করছেন না। আমি আশা করব নির্বাচন কমিশনের বোধোদয় হবে, তারা জেগে উঠবে। সাংবিধানিকভাবে যে দায়িত্ব তাদের রয়েছে, ক্ষমতা তাদের রয়েছেন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে তারা তাদের কাজ করবে।’

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার দাবি আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে না। এই বিষয়গুলো পুরোপুরিভাবে একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিপরীত অবস্থানে নিয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন নিজেই একটা অবস্থান নিয়ে নিয়েছেন যে তারা এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করবেন না।’

বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর তালিকা কবে চূড়ান্ত হবে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শিগগিরই চূড়ান্ত হবে। গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী-১ ও ফেনী-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একসঙ্গে সাক্ষাতকারের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দিনের কার্যক্রম সকালে শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা আড়াইটায়। বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে শুরু হয়েছে সিলেট ও কুমিল্লা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার। বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড এই সাক্ষাতকার নিচ্ছে। স্কাইপে বন্ধ থাকায় অন্য ভিডিও কল অ্যাপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এই সাক্ষাতকারে যুক্ত রয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জেলার ৩৬টি সংসদীয় আসন, কুমিল্লা বিভাগে ৩টি জেলার ২২টি আসন এবং সিলেট বিভাগে ৪টি জেলার ১৯টি আসনের জন্য ছয় শতাধিক প্রার্থী এই সাক্ষাতকারে অংশ নিচ্ছেন। পার্লামেন্টারি বোর্ডে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রয়েছেন।

প্রথমদিন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ, দ্বিতীয় দিন বরিশাল ও খুলনা বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার শেষ হয়েছে। বুধবার ময়মনসিংহ, ফরিদপুর এবং ঢাকা বিভাগের সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস