ইসলামে এতিমের অধিকার

তাসকিন জাহান :
যাদের বাবা-মা বেঁচে নেই, তাদের এতিম বলা হয়। বাবা-মা বেঁচে না থাকায় এতিমদের দুঃখ-কষ্টের শেষ থাকে না। এদিকে লক্ষ্য করে ইসলাম এতিমের অধিকার রক্ষায় উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণের জন্য অধিক গুরুত্ব প্রদান করে এ বিষয়ে তাগাদা দিয়েছে। সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও শাসকদের প্রতি এতিমের অধিকার আদায় করার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতিমের জানমালের নিরাপত্তা বিধানপূর্বক তাদের ধন-সম্পদ লুটেপুটে খাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পবিত্র কোরানে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে এতিমের ধন-সম্পদ ভোগ করে, তারা নিজেদের পাকস্থলীকে অগ্নি দ্বারা পূর্ণ করে এবং অতিসত্বর তারা অগ্নিতেই প্রবেশ করবে।’ -সূরা আন নিসা: ১০
এছাড়াও এতিমদের ধন-সম্পদ রক্ষাসহ সার্বিক বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘আর এতিমদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনা দেখা যায়, তাহলে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পণ করতে পারবে। এতিমের সম্পদ প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করো না অথবা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেল না। যখন তাদের কাছে তাদের সম্পদ তাদের হাতে হস্তান্তর করবে, তখন সাক্ষী রাখবে। অবশ্যই আল্লাহ হিসাব নেয়ার জন্য যথেষ্ট।’ -সূরা আন নিসা: ৬
প্রিয়নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) নিজে এতিম ছিলেন। তাই তিনি এতিমের দুঃখ-কষ্ট অন্তর দিয়ে গভীরভাবে অনুভব করতে পেরেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এতিমদের মাথায় শুধু আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাত বুলায়, তবে যেসব চুলের ওপর দিয়ে হাত বুলিয়েছে তার প্রত্যেকটি চুলের বিনিময়ে কয়েকটি করে নেকি লাভ করবে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘সর্বোত্তম ঘর হলো সেই ঘর, যেখানে এতিমদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হয়। আর নিকৃষ্টতম ঘর হলো সেই ঘর, যেখানে এতিম বসবাস করে, কিন্তু তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু বাণী প্রদান করেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও এতিম লালন-পালন করে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এক কথায় রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা অসহায়, দুঃখী, এতিম ও গরিবদের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। তাদের ব্যথায় ব্যথিত হতেন আবার তাদের আনন্দে আনন্দিত হতেন। উম্মতদেরও তিনি এতিমদের বিষয়ে সহানুভূতিশীল হতে বলেছেন। তাই আসুন আমরা সমাজের এতিমদের প্রতি যতœবান হই, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি।
– লেখক: শিক্ষক