ইতিহাসের পাতায় গুপ্তচর নারীরা

নারীরা কি পুরুষদের চাইতে গুপ্তচর হিসেবে ভালো কিছু করে দেখাতে পারবে? পারবে কি? নারীরা পেরেছে। আর তাই আজ এমন কিছু নারীর কথা বলা হলো যারা কিনা, অতীত থেকে বর্তমানকাল অবধি পারদর্শিতা দেখিয়ে গুপ্তচর হিসেবে নিজেদের আলোচিত করে তুলেছেন-

ভার্জিনিয়া হল
ভার্জিনিয়া হল আমেরিকার অন্যতম আলোচিত একজন নারী গুপ্তচর। যাকে কিনা জার্মানি মিত্রশক্তির ভেতরে সবচাইতে ভয়ঙ্কর গুপ্তচর হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভার্জিনিয়াকে পাওয়া যায় প্যারিসে। সেখান থেকে ব্রিটেনে পালিয়ে যান এই নারী আর প্রশিক্ষণ নেন স্পেশাল অপারেশন অ্যাক্সিকিউটিভের এজেন্ট হিসেবে। এরপর চলে যান ফ্রান্সে। সেখানে ফ্রান্সের সাহায্য করছিলেন তিনি। এরপর স্পেনে একবার চলে গেলেও পরবর্তীতে আবার ফ্রান্সকে সাহায্য করতে শুরু করেন ভার্জিনিয়া হল। যুদ্ধ শেষে সিআইএতে যোগদান করেন এই নারী গুপ্তচর আর ১৯৬৬ সালে অবসর নেন।

ক্রিস্টিনা স্টারবেক
১৯০৮ সালে পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন ক্রিস্টিনা গ্রানভেল নামে ব্যাপক পরিচিত পোলিশ গুপ্তচর ক্রিস্টিনা স্টারবেক। ১৯৪০ সালে হাঙ্গেরিতে ব্রিটিশ গুপ্তচর হিসেবে যান স্টারবেক। তবে পোল্যান্ডেও বারবার যেতে হয় তাকে পোলিশ যোদ্ধাদের দেশটি থেকে বের হতে সাহায্য করার জন্য। আর এই কাজের কারণে একসময় গেস্টাপোদের হাতে ধরা পড়ে যান স্টারবেক। সেসময় নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে দাঁত দিয়ে কামড়ে নিজের জিহ্বা কেটে ফেলেন ক্রিস্টিনা। যাতে জার্মানরা তাকে অসুস্থ ভেবে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ফ্রান্সের হয়েও বেশকিছু সাহসী মিশনে অংশ নেন স্টারবেক। ফ্রান্স আর ব্রিটেন থেকে সম্মানিত করা হয় এই নারী গুপ্তচরকে তার সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য। ১৯৫২ সালে আততায়ীর হাতে খুন হন এই নারী। চলচ্চিত্র ক্যাসিনো রয়ালের ইভা গ্রিনের চরিত্রটি নির্মাণ করা হয় ক্রিস্টিনা স্টারবেকের ছায়া অবলম্বনে।

মাতা হারি
মার্গারেটা গার্ট্রুড মার্গারেট জেলে ম্যাকলিওড। ভাবছেন কার নাম বলছি? ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই গুপ্তচরকে সবাই চেনে মাতা হারি নামে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির গুপ্তরচর হিসেবে কাজ করতেন নাচিয়ে মাতা হারি। অন্তত ফ্রেঞ্চরা এমনটাই ভেবেছিল। ১৯১৭ সালে তাকে ধরে ফেলে ফ্রান্স আর প্যারিসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুর সময় মাতা হারির বয়স হয়েছিল ৪১। তবে মৃত্যুর পরেও এখন পর্যন্ত পুরো পৃথিবীর কাছে অস্পষ্ট হয়ে রয়েছে এই আলোচিত নারী গুপ্তচরের কর্মকাণ্ড। অনেকে তাকে জার্মানির গুপ্তচর বলে চিনলেও ধারণা করা হয় কেবল জার্মানিরই নয়, একইসঙ্গে বেশকিছু দেশের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতেন মাতা হারি। – নারী ডেস্ক