ইছামতীর ভাঙন ঝুঁকিতে ৫ শতাধিক পরিবার

আরিফুল হাসনাত, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর এলাকা দিয়ে ইছামতীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমেই এই স্থানে ভাঙনে বিলীন হয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে আরো ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি, ১০টি মসজিদ, ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর মাত্র ১৫ ফুট ভাঙলে বিলীন হবে উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারুয়া ডিসি সড়ক ও এই সড়কের ওপর নির্মিত লাঠিছড়া ব্রিজ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের সৈয়দনগর এলাকা দিয়ে ইছামতী নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই এলাকার লাঠিছড়া এলাকা থেকে পারুয়া রাবারড্যাম পর্যন্ত নদীর দেড় কিমিজুড়ে তীব্র ভাঙনে চলতি মৌসুমে প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে পারুয়া ডিসি সড়ক। এই এলাকা দিয়ে আর মাত্র ১৫ ফুট ভাঙলেই নদীতে তলিয়ে যাবে উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার ৫ ইউনিয়নবাসীর যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পারুয়া ডিসি সড়কটি। এছাড়াও এই এলাকা দিয়ে সড়কের ওপর নির্মিত লাঠিছড়া ব্রিজটিও ভাঙনে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা দিয়ে নদী ভাঙনে এলাকার মানুষ কষ্টে আছে। ভাঙন রোধে গত বছর স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদের সুপারিশ সংবলিত একটি আবেদন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর করা হয়েছিল। এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নুরুন্নবী আলকাদেরী বলেন, ‘ইছামতীর ভাঙন এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা। সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর পানি ফুলে এই এলাকা প্লাবিত হয় এবং প্রায় সারা বছর ধরে নদীতে ভাঙন লেগেই থাকে। নদী থেকে প্রায় কয়েকশ’ ফুট দূরত্বে থাকলেও বর্তমানে একেবারে নদীর পাড়েই ভাঙনের কবলে পড়েছে এই এলাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সৈয়দনগর কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা, এতিমখানা, হেফজখানা, কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া একাডেমি, প্রায় ২ কিমি দৈর্ঘ্যরে তালুকদার বাড়ি সড়ক, ৪ কিমি দৈর্ঘ্যরে কান্তর আলী সিকদার সড়কসহ এই এলাকার প্রায় ১০টি মসজিদ উল্লেখযোগ্য।
মাদরাসাটির পরিচালনা পরিষদ সভাপতি কাজী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙনে আর মাত্র ১৫ ফুট ভাঙলেই পারুয়া ডিসি সড়ক ও লাঠিছড়া ব্রিজ ইছামতীতে তলিয়ে যাবে। এতে ৫ ইউনিয়নের মানুষ যোগাযোগে চরম দুর্ভোগে পড়বে। এছাড়াও এই এলাকা দিয়ে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই একই দৈর্ঘ্যরে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভাঙলে অনিশ্চয়তায় পড়বে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী। ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন।’
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পারুয়া ডিসি সড়কসহ এলাকা রক্ষায় আমরা ইতিমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আশা করি চলতি অর্থবছরেই ভাঙন রোধে ব্লক স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে।
রাক্ষুসে ইছামতীর ভয়াবহ ভাঙনের কবল থেকে বাঁচতে পারুয়া ডিসি সড়কের সৈয়দনগর এলাকার নদীপাড়ে ব্লক স্থাপনের দাবিতে গত শনিবার দুপুরে মানববন্ধন করেছে ইছামতী নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটি।