ইউরিক অ্যাসিড ওষুধ ছাড়াই কমিয়ে ফেলুন

ইউরিক অ্যাসিড ওষুধ ছাড়াই কমিয়ে ফেলুন

পায়ের আঙ্গুলে ব্যথা, গোড়ালিতে জ্বালা কিংবা নানা অস্থিসন্ধি ফুলে গিয়ে তীব্র যন্ত্রণা- এসব শারীরিক অসুবিধা আমাদের কাছে নতুন নয়। বরং কর্মব্যস্ত জীবন ও পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস যে সব অসুখকে আরো বড় আকারে ডেকে আনছে, তার মধ্যে অন্যতম রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। তবে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের জাদুতে এই অসুখ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

এমনিতে খাবার থেকে উত্পন্ন ইউরিক অ্যাসিড রক্তে মিশে তা কিডনিতে গিয়ে পৌঁছায়। কিডনি এই টক্সিক পদার্থকে ছেঁকে মূত্রের মাধ্যেম দেহের বাইরে বের করে দেয়। কিন্তু যকৃত যদি নির্গত ইউরিক অ্যাসিডের চেয়ে বেশি পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে, তখন কিডনির পক্ষে সেই অতিরিক্ত অ্যাসিডকে বের করা সম্ভবপর হয় না। ফলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসই এর জন্য মূলত দায়ী।

যত দিন এগোয়, ততই হাঁটুসহ নানা অস্থিসন্ধিতে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে থাকে এবং এতে অস্থিসন্ধি ফুলে গিয়ে ব্যথা হতে থাকে। চিকিত্সকদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলেই প্রাথমিকভাবে ওষুধের শরণ নিতে হবে এমন নয়। বরং প্রথম অবস্থায় খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে একে নিয়ন্ত্রণ করার পথ বাতলান তারা। একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তখনই ওষুধ প্রয়োজন হয়।

পুরুষের ক্ষেত্রে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের স্বাভাবিকমাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ৩.৪৭ মিলিগ্রাম এবং নারীর ক্ষেত্রে প্রতি ডেসিলিটারে ২.৪৬ মিলিগ্রাম। এর থেকে বাড়লেই প্রয়োজন সতর্কতার। নামমাত্র খরচে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের মাধ্যমে এই অসুখ কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, জানেন?

প্রতি দিন দু’-তিন বার এক গ্লাস জলে এক চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার যোগ করে খেলে শরীরের এই টক্সিক পদার্থ জমে থাকতে পারে না। অনেক চিকিত্সকও ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের এমন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, ‘অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের ম্যালিক অ্যাসিডই এর জন্য মূলত দায়ী। ইউরিক অ্যাসিডের ক্রিস্টালগুলোকে ভেঙেচুরে দেয়। শরীরের গাঁটে গাঁটে সে সব জমতে দেয় না। তবে কেবল অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ছাড়াও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানিও খান। শরীর থেকে যত বেশি টক্সিক পদার্থ বের করতে পারবেন ততই ইউরিক অ্যাসিড থেকে দূরে থাকার সুযোগ বাড়বে।’

ইউরিক অ্যাসিড হলে কিছু দানাশস্য, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার, রেড মিট, রেড ওয়াইন, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি খাবারে নিষেধাজ্ঞা আসে। মেনে চলুন সে সব নিয়মও। আনন্দবাজার।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.