ইউএনওর অভিযানের ট্রলারে হামলায় আহত ৩

ইউএনওর অভিযানের ট্রলারে হামলায় আহত ৩

পটুয়াখালীর বাউফলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ট্রলারে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে অর্ধশতাধিক দুর্বৃত্ত। এতে ইউএনওসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজনকে সোমবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, তেতুলিয়া নদীতে অভয়াশ্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবার সন্ধ্যার দিকে ইউএনও পিজুস চন্দ্র দের নেতৃত্বে ১১ জনের একটি দল ট্রলারে করে বাউফল উপজেলা-সংলগ্ন তেতুলিয়া নদীতে অভিযানে নামে। রাত সাড়ে সাতটার দিকে তেতুলিয়া নদীর চরওয়াডেলে এলাকার সংলগ্ন নদীতে পৌঁছালে তারা জেলেদের অবৈধভাবে মাছ ধরতে দেখতে পান। জেলেরা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকা ও জাল ফেলে চলে যায়। পরবর্তীতে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও বাঁধা জাল জব্দ করা হয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ৫০-৬০ জনের একটি দল অতর্কিতে লাঠিসোট নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই ট্রলারের ওপর হামলা চালায় এবং বৃষ্টির মত ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে ইউএনও পিজুস চন্দ্র দে, ভ্থমি কার্যালয়ের জারিকারক মো. আশরাফ ও ইউএনওর কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. আবদুল্লাহ গুরুতর আহত হন। জীবন বাঁচাতে একপর্যায়ে ইউএনওর সঙ্গে থাকা পুলিশ ফাঁকা গুলি করে নিজেদের রক্ষা করে। আহত আশরাফ ও আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউএনও পিজুস চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হঠাৎ আক্রমনে খুবই ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় রক্ষা পেয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর তেতুলিয়া নদীকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। এ কারণে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ।

বাউফল থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.