‘ইঁদুর ধরতে না পারলে সে বিড়ালের কি দরকার’

সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতিসংক্রান্ত ৩৩টি মামলার শুনানিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ভর্ৎসনা করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না, সে বিড়াল থাকার দরকার নেই। এ মামলার শুনানি চলাকালে বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আর ভুক্তভোগী জাহালমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত।

সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় জাহালমের বিনাদোষে তিন বছর কারাভোগের দায় দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নিতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, ‘দুদক যখন জানতে পারলো জাহালম নির্দোষ, তখন তার জামিন করানো উচিত ছিল। এর দায় দুদককে নিতেই হবে।

এদিকে সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ৩৩টি মামলার সকল নথিপত্র আদালতে জমা দেয়ার জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে আদালত বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় কতজন ব্যাংক অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে- আমরা সব দেখব। এরপর আদালত এ মামলার সব নথি তলব করে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম সাংবাদিকদের জানান, টাঙ্গাইলের নাগরপুর ডুমুরিয়ার জাহালমকে দুদকের মামলায় ভুল আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিলের যাবতীয় নথিপত্র তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১০ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এসব নথি দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ মামলায় দুদকের পক্ষে হলফনামা জমা দেন আইনজীবী খুরশীদ আলম। শুনানিতে তিনি সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলায় জাহালমকে কীভাবে ২৬ মামলার আসামি করা হয়, আবার দুদকের অধিকতর তদন্তে জাহালম কীভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হলেন- এসব ব্যাপারে হলফনামা থেকে আদালতকে পড়ে শোনান।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি ২৬ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে থাকার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চার জনকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। দুদকের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী, স্বরাষ্ট্র সচিবের একজন প্রতিনিধি ও আইন সচিবের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থেকে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এ বিষয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থানের পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

একটি জাতীয় দৈনিকে ৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে, ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না…’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। ওই প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপনের পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির দায়ে ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক।

জাহালমের কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। দুদক বলছে, জাহালম নিরপরাধ প্রমাণিত হয়েছেন। তদন্ত করে একই মত দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও। ফলে একটি মামলায় তার জামিন হয়েছে। আরও ৩২টি মামলায় জামিন পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।’

মানবকণ্ঠ/এফএইচ