আ. লীগের তৃণমূলে বহু গ্রুপ উপগ্রুপ

চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল বহু গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আর এদের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় কোনো কোনো নেতা। কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে গ্রুপগুলোতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কেউ দলীয় প্রতীক নৌকার পক্ষে আবার কেউ দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে-গোপনে কাজ করছেন। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগারও করছেন। এতে দলাদলি ও রেষারেষি বাড়ছেই। দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় এ রেষারেষি চলে আসছে কয়েক বছর ধরেই। আর এ নির্বাচনে তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। কিন্তু মন্ত্রী কিংবা স্থানীয় এমপি এসব সমন্বয় করতে পারেননি। তারা শক্তহাতে এগুলো দমন করলে দলীয় প্রার্থীর বিজয় সহজ এবং গ্রুপিং কমে আসতো বলে মনে করছেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

সূত্রে জানা যায়, টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারে ভালো করলেও দলে ‘বেহাল’ অবস্থা! কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচনে দলটির প্রাণ তৃণমূলে বেশ নাজেহাল অবস্থা। মাঠে বিরোধী দল না থাকায় আওয়ামী লীগেই একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। পাল্লা দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। একে অপরের চরিত্র হননেও পিছপা হচ্ছেন না। এবারের বিদ্রোহী দমনে নমনীয় ছিল আওয়ামী লীগ। নির্বাচন জমজমাট করতেই তাদের এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে। কিন্তু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়েছে। দলীয় রাজনীতির প্রভাব না থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত তৃণমূল। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলেই আসছে। একে অপরকে ঘায়েল করাই যেন নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার বাস্তব রূপ ফুটে উঠেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে থেকে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের মনোমালিন্য চলে আসছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের হয়ে কাজ করলেও গ্রুপগুলো ছিল সক্রিয়। তখন সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীরাও গ্রুপকে মিলিত করতে পারেনি। সেই গ্রুপিংয়ের রাজনীতি চলতি উপজেলা নির্বাচনে প্রকাশ্যে দেখা দিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ৩টি গ্রুপ রয়েছে। চেয়ারম্যান পদে যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন সেখানে গ্রুপিং বেশি। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় গ্রুপিং রয়েছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, আমরা উপজেলা নির্বাচনকে ওপেন রেখেছি। তাই একাধিক প্রার্থী রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক মানবকণ্ঠকে বলেন, আমরা উপজেলা নির্বাচনকে ওপেন করে দিয়েছি। তাই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এটা স্বাভাবিক। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের প্রতিযোগিতা করছে। নির্বাচন পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ আবার এক হয়ে যাবে।

মানবকণ্ঠ/এআর