আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদানে অনীহা

আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদানে অনীহা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নেই। অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ নেই। যে ক’টিতে কোষাধ্যক্ষ আছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত নন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২৩টিতে আর্থিক অডিট প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ১২টির অডিট প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনোনীত অডিট প্রতিষ্ঠানের করা নয়। এ ছাড়া ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ কমিটির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। দেশের উচ্চ শিক্ষা তদারকি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ ৪৪তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের কাছে প্রতিবেদনটি পেশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে আগ্রহী নয়। অথচ জবাবদিহিতা ও আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য অপরিহার্য। তারা আর্থিক আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবেদন প্রদানে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে না যা ‘হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা ৯০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৪২টিতে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ নেই। অপর ৪৮টির কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ থাকলেও তারা আইন অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নন। এ ছাড়া অবশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অডিট প্রতিবেদন কমিশনে প্রেরণ করেছে। এর মধ্যে ১২টির অডিট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের পত্র পাওয়া যায়নি। ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ কমিটির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের (সিএ ফার্ম) মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক মনোনীত একটি অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সিএ ফার্ম মনোনয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, সেখানে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত ৩টি অডিট ফার্মের মধ্য থেকে সরকার একটি অডিট ফার্ম মনোনয়ন দেয়। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দের তালিকা থেকে একটি ফার্ম বাছাই করা হয়। এর ফলে আর্থিক বিষয়ে প্রকৃত তথ্য পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব না নিয়ে ইউজিসির পরামর্শে নিরপেক্ষ কোনো ফার্ম নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিরীক্ষা করানোর সুপারিশ করেছে কমিশন।

ইউজিসি বলছে, অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক বিষয়গুলো স্বচ্ছভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মঞ্জুরি কমিশনের কাছে উপস্থাপন করছে না। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিরীক্ষিত বার্ষিক হিসাব নিয়মিতভাবে দাখিল করে না। এটি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমন কার্যকলাপ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক। আচার্যের মনোনীত উপাচার্য, উপউপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ এই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণ না করে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সঠিকভাবে তাদের প্রশাসনিক, আর্থিক, একাডেমিক ও অন্য কার্যক্রম সঠিক ও সুনিপুণভাবে চলতে পারে না।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.