আসামের ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল সারাদেশ: গাজীপুরে ১০ শ্রমিক আহত

মানবকণ্ঠ ডেস্ক:
বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া ভারতের আসামে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দফতর (ইউএসজিএস) এবং ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলোজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৩। আবহাওয়া অধিদফতরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ২৯৩ কিলোমিটার এবং রংপুর থেকে ১১৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আসামের সপ্তগ্রামের কাছাকাছি এলাকায়, ভূপৃষ্ঠের ৯ কিলোমিটার গভীরে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ভারতের গুয়াহাটি, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং ভুটানের থিম্পু থেকেও এ ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সকালে অফিস শুরুর পর পর রাজধানীর ভবনগুলো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলে আতঙ্ক তৈরি হয়। দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অধিকাংশ জেলার পাশাপাশি সিলেট, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে খবর দিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।
গাজীপুরে ভূমিকম্প আতঙ্কে হুড়োহুড়িতে ১০ শ্রমিক আহত: গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরে ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে ১০ পোশাক শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের অন্যস্থানের সঙ্গে গাজীপুরে বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মহানগরের সালনা এলাকার ডিএনএস প্যান প্যাসিফিক সোয়েটার কারখানার প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. ফয়সল আহমেদ বলেন, ভূমিকম্পের সময় তাদের কারখানায় অনেকে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে কমবেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আহত ১০ শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ওই কারখানার অপারেটর মো. মঞ্জুর হোসেন সজল বলেন, ভূমিকম্প টের পেয়ে আমরা কাজ ফেলে নিচে নেমে যাই। এ সময় আমার মতো আরো কমপক্ষে ৯-১০ জন আহত হয়েছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেবেকা সুলতানা জানান, ভূমিকম্পের মাত্রা কম ছিল। কোথাও থেকে কোনো অঘটনের খবর জানা যায়নি।
নীলফামারীতে ছোটাছুটি: নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়। ক্ষয়ক্ষতি না হলেও দিকবিদিগ ছোটাছুটি করতে শুরু করেন মানুষজন।
নীলফামারী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এমএলএসএস শাহরিয়ার হোসেন বাবু জানান, ঘর কাঁপতে শুরু করায় সে সময় কলেজের ভেতর থেকে বাইরে বের হই।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধা জেলার সর্বত্র গতকাল মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় নদী এবং পুকুরের পানিতে বড় বড় ঢেউ খেলে যায়। বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এতে আতঙ্কিত মানুষরা রাস্তা ও ফাঁকা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার এবং ১৩ এপ্রিল ৬ দশমিক ৯ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে পুরো বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে। কয়েকটি ভবন হেলে পড়ে, হুড়োহুড়িতে আহত হয় বহু মানুষ। ওই বছর ৪ জানুয়ারি ভারতের মনিপুর অঞ্চলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকা, জামালপুর, রাজশাহী, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে হুড়োহুড়ির মধ্যে আতঙ্কে মৃত্যু হয় পাঁচজনের। বেশ কিছু ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা যায়।
তার আগে ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে আট হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়; ক্ষয়ক্ষতি হয় ভারত ও বাংলাদেশেও । রিখটার স্কেলে ৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৯ মাত্রাকে মৃদু ভূম্পিকম্প হিসেবে ধরা হয়। এ ছাড়া ৫ থেকে ৫ দশমিক ৯৯ মাত্রাকে ‘মাঝারি’, ৬ থেকে ৬ দশমিক ৯৯ মাত্রাকে ‘শক্তিশালী’, ৭ থেকে ৭ দশমিক ৯৯ মাত্রাকে ‘ভয়াবহ’ এবং মাত্রা ৮-এর বেশি হলে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ ভূমিকম্প বিবেচনা করা হয়।