আশ্রয় পাচ্ছে জামাই আদরে, শঙ্কিত কক্সবাজারবাসী

রোহিঙ্গা

মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা নতুন করে শত শত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। কক্সবাজারের লোকজন নতুন করে আবারো রোহিঙ্গার ঢল আসায় শঙ্কিত হয়ে পড়ছে। এসব রোহিঙ্গার স্রোত থামানোর বিষয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। বাংলাদেশে আগে থেকে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে তারা যোগ হচ্ছে। থাকছে যে যার যার মতো করে। অনুপ্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শাহাপরীর দ্বীপ পয়েন্টে তাদের তালিকাভুক্ত করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে। আশ্রয় পাচ্ছে জামাই আদরে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, নতুন করে রোহিঙ্গার ঢল আসার পেছনে ভূমিকা রাখছে ক্যাম্পে অবস্থানকারী তাদের আত্মীয়স্বজনরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তুমব্রু কোনারপাড়া ঢেকুবনিয়া খাল পার হয়ে আসার পথে একদল রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা হয়। তারা আসছিলেন মণ্ডু জেলার রাইন্নাখালী গ্রাম থেকে। ১৫ দিন পূর্বে তাদের আত্মীয়স্বজন ১৫ পরিবারের প্রায় ১০০ জন বাড়িঘর ছেড়ে চলে আসে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। বালুখালী ক্যাম্পে আশ্রিত নবী হোসেন (৪০) নামে এক আত্মীয় মোবাইলে তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানাত। বলত তারা খুবই ভালোভাবে আছে। সরকার তাদের চাল, ডাল, চিনি, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, সাবান, ওষুধ, পানি, কাপড় চোপড়-সহ সব কিছু দিচ্ছে। তাদের কোনো অভাব অনটন নেই। বেঁধে দিচ্ছে ঘর। ক্যাম্পে স্থাপন করে দিচ্ছে নলকূপ। তৈরি করে দিচ্ছে ল্যাট্রিন, মসজিদ, মক্তব আরো কত কিছু। এ কথা মোবাইলে তাদের আত্মীয়স্বজনরা মিয়ানমারে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতিদিন জানাচ্ছে। তারা আত্মীয়দের বলেন, চলে আস কোনো ভয় নেই। আসলে লাভ হবে। এখানে আসলে রবির সিমসহ মোবাইল সেট পাওয়া যায় শত শত। দাম ১৫০০ টাকা, ১২০০ টাকা ও অনেক সস্তা। এ খবর শুধু নবী হোসেন নন হাজার হাজার রোহিঙ্গা তাদের মিয়ানমারে অবস্থানকারী অবশিষ্ট আত্মীয়স্বজনকে জানাচ্ছেন।

পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা ফরিদ আলম (৬৫) জানান, তার বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা ছিল না। এ পাড় থেকে অর্থাৎ উখিয়ার পুরনো কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েক আত্মীয় ও এলাকার পরিচিত লোকজনের সঙ্গে সর্বক্ষণিক তাদের যোগাযোগ ছিল। ফরিদ আলম আকিয়াব জেলার নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় তার প্রভাবপত্তি রয়েছে। সেখানে তার ব্যবসাবাণিজ্য ও প্রচুর জায়গা সম্পত্তি আছে। তিনি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন ও হয়রানি থেকে কৌশলে বেঁচে নিরাপদে ছিলেন। সবাই যখন একের পর এক গ্রাম ছেড়ে বাড়িঘর-সহায় সম্পত্তি ফেলে চলে আসছে তখন তিনি একা থাকতে পারছিলেন না। পুরো গ্রাম মানব শূন্য হয়ে পড়ায় একা থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিবারের ১০ সদস্য নিয়ে ফরিদ গত সোমবার সকালে উখিয়ার থাইংখালী তাজুনিমার কোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। এভাবে হাজার হাজার রোহিঙ্গারা বানের পানির মতো আবারো আসা শুরু করেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, এ মুহূর্তে কি কারণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার জন্য উৎসাহিত হচ্ছে জানি না। তবে রোহিঙ্গাদের আবার ঢালাওভাবে আসার পেছনে কিছু উদ্দেশ্য আছে বলে মনে হচ্ছে। আমার ধারণা বর্তমানে যারা মিয়ানমার থেকে আসছে তারা কোনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না। এ দেশে আগে আসা আত্মীয়স্বজন তাদের আসার জন্য নানাভাবে প্ররোচিত করছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিভিন্ন এনজিও, সংস্থাসহ কিছু মৌলাবাদী গোষ্ঠী তাদের পক্ষে নানা রকমের ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে টাঙিয়ে নানা দাবি দাওয়া দিচ্ছে। আসলে এ দাবি দাওয়া তারা কাকে দিচ্ছে তাদের নেতা কে? তাদের এ দাবি দাওয়ার পক্ষে কোনো যুক্তি আছে বলে আমি মনে করি না। এ দাবি দাওয়া মিয়ানমারের ভূখণ্ডে তোলা উচিত। আমাদের দেশে কেন এত কথা এত দাবি। এই দাবি যুক্তিহীন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.