আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ভোটকেন্দ্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ভোটকেন্দ্র। এরইমধ্যে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়নপত্র বিতরণ। প্রথম দিনে বিভিন্ন হলে মোট ১৮ জন কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়নপত্র বিতরণ চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে প্রথম দিনে বড় কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়নি। অবশ্য ছাত্র সংগঠনগুলো প্রার্থিতা নির্ধারণের জন্য নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনাও চালাচ্ছে।

মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হলেও এখনো ভোটকেন্দ্র নিয়ে বিতর্ক কাটেনি। ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আবাসিক হলেই ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর ভেতরে তৈরি হয়েছে দুটি পক্ষ। এক পক্ষ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, আরেক পক্ষ এর বিরোধিতা করছে। আবাসিক হলে ভোটকেন্দ্র রাখার পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি নিচ্ছে। এ দিকে হলে ভোটকেন্দ্র রাখার বিষয়ে প্রশাসনও অনড় অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ডাকসু নির্বাচনের গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র আবাসিক হলগুলোতেই স্থাপনের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে। এরপর ছাত্রদল, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপনের দাবি জানায়।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে আবাসিক হলেই ভোটকেন্দ্র রাখার প্রস্তাব করে। ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থানের বিষয়ও এ নির্বাচনের অন্যতম ইস্যু। তবে সহাবস্থানের ব্যাপারে সম্প্রতি কিছুটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

ভোটকেন্দ্র ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র হলের ভেতরে হওয়ার ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ। শুধু ছাত্রলীগ নয়, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্তর্ভুক্ত আটটি ছাত্র সংগঠন ও টিএসসি-ভিত্তিক সব সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এটিকে স্বাগত জানিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা থেকে একটি ‘নন-ইস্যু’কে ‘ইস্যু’তে পরিণত করার চেষ্টা করছে তথাকথিত বামপন্থি সংগঠনগুলো।’ সবার দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডাকসু নির্বাচনকে সার্থক করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছি। এক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবন কিংবা টিএসসিতে করা যেতে পারে। মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনেও একই দাবি করেছি। এতদিন সহাবস্থানের একটা দাবি ছিল। একপর্যায়ে প্রশাসন সহযোগিতা করেছে। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও ছাত্রদলকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। তবে এই সহাবস্থান যেন শুধু ডাকসুকেন্দ্রিক না হয়, সহাবস্থান যেন স্থায়ী হয়।’

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘প্রশাসন চাইলে ২৪ ঘণ্টার নোটিশে সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিষয়টি সমাধান করতে পারে। এটি শুধু কয়েকটি সংগঠনের দাবি নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি। এ নির্বাচনকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে না রেখে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের উৎসব হিসেবে নেয়া উচিত।’

এ দিকে গতকাল ছাত্রদলকে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী উল্লেখ করে তাদেরকে মধুর ক্যান্টিনে নিয়ে আসার প্র?তিবা?দ জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম পরিষদ। এ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদ?লকে অযোগ্য ঘোষণাসহ চার দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

মানবকণ্ঠ/এআর