আ’লীগের মনোনয়নে বিতর্কিতরা!

আ’লীগের মনোনয়নে বিতর্কিতরা!আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনয়নপ্রত্যাশীদের থেকে বাছাই করে দলীয় একক প্রার্থী চ‚ড়ান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের জন্য একক প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে দলটি।

মনোনয়ন বিক্রির শুরু থেকে তৃণমূলের ক্ষোভ অভিযোগ হিসেবে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা পড়লেও তার প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে একক প্রার্থী ঘোষণার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে দলের ঊর্ধ্বতনরা। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই ধাপের জন্য ঘোষিত তালিকায় স্থান পেয়েছে যুদ্ধাপরাধীর আত্মীয়, স্বর্ণ চোরাচালানে যুক্ত ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবী ও বিভিন্ন সময়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কাছের লোকেরা।

সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় ১২২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রোববার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যোগ্যতার নিরিখে ও তৃণমূলে জনপ্রিয়দেরই দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। যাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাদের প্রার্থী করা হয়েছে। প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। তার আগে গত শনিবার সকালে প্রথম ধাপের ৮৭ উপজেলার জন্য একক প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হলেও প্রথম দুই ধাপে ২১৬ উপজেলা ভোট নেবেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই ধাপের জন্য ক্ষমতাসীন দল গত দুদিনে ২০৯ উপজেলার একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। এ দুই ধাপের নির্বাচনের বাকি ৭টি উপজেলাও দু-একদিনের মধ্যে জানানো হবে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের প্রার্থীদের মনোনয়ন কবে দেওয়া হবে- জানতে চাইলে কাদের বলেন, দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারির সভায় তা চ‚ড়ান্ত করা হবে। উপজেলা পরিষদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তৃণমূল থেকে আসা নামগুলো থেকে বাছাই করে প্রার্থী চূড়ান্ত করছে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মনোনয়ন বোর্ড।

প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের জন্য যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্য রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রয়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের কাছে আত্মীয়কে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করায় সংবাদ সম্মেলন করেছে বঞ্চিত প্রার্থীরা। গত শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নবীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে রাজাকার গোলাম আযমের কাছে আত্মীয় হাবিবুর রহমান স্টিফেনকে দলীয় প্রার্থী করতে মনোনয়ন দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। হাবিবুর রহমান স্টিফেন নবীনগরের বীরগাঁও গ্রামের সোনা মিয়া সরকারের ছেলে ও আমেরিকা প্রবাসী দ্বৈত ধর্মের অধিকারী বিতর্কিত ব্যক্তি।

হাবিবুর রহমান সরকার স্টিফেন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাতিল করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় বীরগাঁও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা মো. সামছুল আলম আবেদন জানিয়ে ছিলেন। বীরগাঁও গ্রামে গোলাম আযম প্রতিষ্ঠিত সোবহানিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা করেন হাবিবুর রহমান স্টিফেন। মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীরা স্টিফিনকে বাদ দিয়ে দলের ত্যাগী যে কোনো নেতাকে দলের মনোনয়ন দিলে কারো কোনো আপত্তি থাকবে না। উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত নেতাদের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনে প্রার্থী তালিকা বাতিল করা হবে।

এদিকে প্রথম ধাপে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ। তিনি গত মেয়াদেও চেয়ারম্যান ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তিনি বেশ কয়েক মাস জেল খেটেছেন। স্বর্ণ চোরাচালানে যুক্ত থাকার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর পল্টনের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে শুল্ক গোয়েন্দারা পাঁচ বস্তা দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও ৬১ কেজি ওজনের ৫২৮টি সোনার বার উদ্ধার করেন।

এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ আলী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, সোনা চোরাচালানে এস কে মোহাম্মদ আলীসহ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ জড়িত। পল্টন থানায় মামলাটি হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বরে রিয়াজসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করে এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকের ঘোষিত মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলা প্রার্থী এম এম মোশাররফ হোসেন। তার ছোট ভাই মুকুল মিয়া মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে পাকের হাট সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শফিউল আজম চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। সরকারি চাকরিজীবী কীভাবে মনোনয়ন পেলেন- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তারপরও কোনো সমস্যা থাকলে আমরা যাচাই করে দেখব।

দ্বিতীয় ধাপে ১২২টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে রোববার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও সদর অরুণাংশু দত্ত টিটো, পীরগঞ্জ মো. আখতারুল ইসলাম, রানীশংকৈল মো. সইদুল হক, হরিপুর মো. জিয়াউল হাসান, বালিয়াডাঙ্গী মো. আহসান হাবীব বুলবুল, রংপুর জেলার পীরগাছা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মিলন, তারাগঞ্জ মো, আনিছুর রহমান, বদরগঞ্জ ফজলে রাব্বী, কাউনিয়া আনোয়ারুল ইসলাম, পীরগঞ্জ নুর মোহাম্মদ, গংগাচড়া মো. রুহুল আমিন, গাইবান্ধা সদর শাহ্ সারোয়ার কবীর, সাদুল্লাপুর মো. সাহারিয়া খান, গোবিন্দগঞ্জ মো. আবদুল লতিফ প্রধান, ফুলছড়ি জিএম সেলিম পারভেজ, সাঘাটা এস এম সামশীল আরেফিন, পলাশবাড়ী, এ কে এম মোকছেদ চৌধুরী, দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর সদর ইমদাদ সরকার, কাহারোল এ কে এম ফারুক, বিরল এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, বোচাগঞ্জ মো. আফছার আলী, চিরিরবন্দর মো. আহসানুল হক, ফুলবাড়ী মো. আতাউর রহমান মিল্টন, বিরামপুর মো. পারভেজ কবীর, হাকিমপুর মো. হারণ উর রশিদ, বীরগঞ্জ মো. আমিনুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ মো. আতাউর রহমান, পার্বতীপুর মো. হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, খানসামা মো. সফিউল আযম চৌধুরী, ঘোড়াঘাট মো. আবদুর রাফে খন্দকার। রাজশাহী বিভাগে বগুড়া সদর মো. আবু সুফিয়ান, নন্দীগ্রাম মো. রেজাউল আশরাফ, সারিয়াকান্দি অধ্যক্ষ মুহম্মদ মুনজিল আলী সরকার, আদমদীঘি মো. সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, দুপচাঁচিয়া মো. মিজানুর রহমান খান, ধুনট মো. আবদুল হাই (খোকন), শাজাহানপুর মো. সোহরাব হোসেন, শেরপুর মো. মজিবুর রহমান মজনু, শিবগঞ্জ মো. আজিজুল হক, কাহালু মো. আবদুল মান্নান, গাবতলী এ এইচ আজম খান, সোনাতলা মো. মিনহাদুজ্জামান লীটন, নওগাঁ সদর মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক), আত্রাই মো. এবাদুর রহমান প্রামাণিক, নিয়ামতপুর ফরিদ আহমেদ, সাপাহার মো. শামছুল আলম শাহ্ চৌধুরী, পোরশা মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ধামইরহাট মো. আজাহার আলী, বদলগাছী মো. আবু খালেদ বুলু, রানীনগর মো. আনোয়ার হোসেন, মহাদেবপুর মো. আহসান হাবীব, পত্মীতলা মো. আবদুল গাফ্ফার, মান্দা মো. জসিম উদ্দীন, পাবনা সদর, মো. মোশারোফ হোসেন, আটঘরিয়া মো. মোবারক হোসেন, বেড়া মো. আবদুল কাদের, ভাঙ্গুরা মো. বাকি বিল্লাহ, চাটমোহর সাখাওয়াত হোসেন সাখো, ঈশ্বরদী মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস, সাঁথিয়া মো.আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সুজানগর শাহিনুজ্জামান, ফরিদপুর মো. খলিলুর রহমান সরকার, ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর সদর মো. আবদুর রাজ্জাক মোল্লা, বোয়ালমারী এম এম মোশাররফ হোসেন, চরভদ্রাসন মো. কাউছাড়, সদরপুর এইচ এম শায়েদীদ কামাল লিপু, সালথা মো. দেলোয়ার হোসেন, আলফাডাঙ্গা এস এম আকরাম হোসেন, মধুখালী মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চু, নগরকান্দা মনিরুজ্জামান সরদার, ভাঙ্গা জাকির হোসেন মিয়া। সিলেট বিভাগের সিলেট সদর আশফাক আহমেদ, বিশ্বনাথ মো. নুনু মিয়া, দক্ষিণ সুরমা মো. আবু সাঈদ, বালাগঞ্জ মো. মোস্তাকুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম, গোয়াইনঘাট মো. গোলাম কিবরিয়া হেলাল, জৈন্তাপুর লিয়াকত আলী, কানাইঘাট আবদুল মোমিন চৌধুরী, জকিগঞ্জ মো. লোকমানউদ্দিন চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ ইকবাল আহমেদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজার আতাউর রহমান, মৌলবীবাজার জেলার বড়লেখা মো. রফিকুল ইসলাম, জুড়ী গুলশান আরা মিলী, কুলাউড়া মো. কামরুল ইসলাম, রাজনগর মো. আকছির খান, মৌলবীবাজার সদর মো. কামাল হোসেন, কমলগঞ্জ মো. রফিকুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল রনধীর কুমার দেব। চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলার হাতিয়া মো. মাহবুব মোরশেদ, চট্টগ্রাম জেলার স›দ্বীপ মো. শাহজাহান, সীতাকুণ্ডু এস এম আল মামুন, রাঙ্গুনিয়া খলিলুর রহমান চৌধুরী, ফটিকছড়ি মো. নাজিমউদ্দিন, মিরসরাই মো. জসিমউদ্দীন, রাউজান এ কে এম এহসানুল হাসান চৌধুরী, হাটহাজারী এস এম রাশেদুল আলম, রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী মো. সামশু দোহা চৌধুরী, রাঙ্গামাটি সদর মো. শহিদুজ্জামান মহসীন, রাজস্থলী ওবাচ মার্মা, লংগদু মো. আব্দুল বারেক সরকার, বিলাইছড়ি জয় সেন তঞ্চঙ্গ্যা, কাপ্তাই মো. মফিজুল হক, বরকল সজীব কুমার চাকমা, জুড়াছড়ি রূপকুমার চাকমা, বাঘাইছড়ি মো. ফয়েজ আহমেদ, খাগড়াছড়ি সদর মো. শানে আলম, মানিকছড়ি মো. জয়নাল আবেদিন, ল²ীছড়ি বকুল চৌধুরী, দীঘিনালা মো. কাশেম, মহলছড়ি ক্যাজাই মার্মা, পানছড়ি বিজয় কুমার দেব, মাটিরাঙ্গা মো. রফিকুল ইসলাম, রামগড় বিশ্ব প্রদীপ কুমার কারবারী, বান্দরবান সদর এ কে এম জাহাঙ্গীর, রোয়াংছড়ি চহাইমং মার্মা, আলীকদম জামাল উদ্দিন, থানচী থোয়াই হলা মং মার্মা, লামা মো. ইসমাইল, রুমা উহলাচিং মার্মা, নাইক্ষ্যংছড়ি মো. শফিউল্লাহ, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।

মানবকণ্ঠ/এএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.