আমি জন্মদিন উদযাপন করি না : ডলি জহুর

১৯জুলাই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী ডলি জহুরের জন্মদিন। বড় পর্দা কিংবা ছোট পর্দা সব মাধ্যমেই তিনি সমান জনপ্রিয় ডলি জহুর। দর্শকনন্দিত এই অভিনেত্রী মা হিসেবে পর্দায় হাজির হয়েছেন বহুবার। দর্শকদের কাছে তিনি মা হিসেবেও পেয়েছেন পরিচিত। এমনকি অনেক তারকারাও উনাকে মা বলে ডাকেন। ১৯৭৫ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি নাট্যদলে যুক্ত হন।পরে ইবলিশ,ময়ুর সিংহাসনসহ অনেক সফল মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। মঞ্চ নাটকের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত টিভি নাটকে অভিনয় করতে থাকেন। আশির দশকের শেষে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের ‘এইসব দিন রাত্রী’তে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে যান।

পরবর্তীতে তিনি আরো কিছু আলোচিত টিভি নাটকে অভিনয় করেন,এর মধ্যে গত কয়েক বছরে রঙ্গের মানুষ,আলো আমার আলো,শোধবোধ,তোমার দোয়ায় ভালো আছি মা,আমার বউ সব জানে,মধাহ্ন ভোজ কি হবে সহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে।

রূপালি পর্দায় ‘অসাধারণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিষেক হয়। এরপর হুমায়ূন আহমেদের ‘শঙ্খনীল কারাগার’ অভিনয় করে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি বেশ প্রশংসিত হন। একে একে অভিনয় করেন, আগুনের পরশমনি,দেশপ্রেমিক,লাভ স্টোরি,আনন্দ অশ্রু, বাবা কেন চাকর, সন্তান যখন শত্রু, রং নাম্বার, ঘানি, দ্বারুচিনি দ্বীপ, নিরন্তর,এবাদত, মা বড় না বউ বড়সহ অসংখ্য দর্শকনন্দিত ও প্রশংসিত চলচ্চিত্র।

অভিনয় জীবনের কৃতিত্ব স্বরুপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে শঙ্খনীল কারাগার(১৯৯২) এবং সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে ঘানি(২০০৬) চলচ্চিত্রের জন্য এই পুরষ্কারের স্বীকৃতি পান। ব্যক্তিজীবনে তিনি প্রয়াত অভিনেতা জহুরুল ইসলাম কে বিয়ে করেন,একমাত্র ছেলে বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাস করায় মাঝেমধ্যে তিনি সেখানে বেড়াতে যান।

মানবকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে এই গুণী অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি জন্মদিন উদযাপন করি না। আমার বিশ্বাস জন্মদিন কখনো ফেরে না। আর এখন তো বয়স হয়েছে। এই দিনটি ফিরে আসলে মৃত্যু দিনটিই স্মরণ করিয়ে দেয়। এবছর হজে যাবো। হাতে থাকা কাজগুলো শেষ করছি।’

মুঠোফোনে আলাপকালে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে এইসব কথা বলছিলেন ডলি জহুর। শরীরের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শরীরটা ভালো নেই। ঠাণ্ডার সমস্যায় ভুগছি, আমার এ্যামজার সমস্যা আছে। ই্দানিং সমস্যাটা আরো বেড়েছে।

সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি এই অভিনেত্রীর।

মানবকণ্ঠ/আরএস