আমানত রক্ষার গুরুত্ব

জহির উদ্দিন বাবর :
কারো কোনো বস্তু অন্যের কাছে রক্ষিত রাখার নাম আমানত। আরবি ভাষায় আমানত অর্থ হলো কারো ওপর কোনো ব্যাপারে নির্ভর করা। আমাদের সমাজে সাধারণত টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ গচ্ছিত রাখাকেই আমানত মনে করা হয়। আর কেউ যদি এটা নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে বা গচ্ছিত অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করে ফেলে এটাকে আমরা খেয়ানত বলি। তবে কোরান-হাদিসে আমানতের বিস্তৃতি আরেকটু ব্যাপক। যেমন জšে§র আগেই মানুষ রূহের জগতে স্বীকার করে এসেছে আল্লাহ আমাদের প্রভু-এটাও আমানত। মানুষের গোটা দেহটাই আমানত। প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন আমানত হিসেবে। যথাযথভাবে তা ব্যবহার না হলেই তা আমানতের খেয়ানত।
আল্লাহ পবিত্র কোরানে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা আমানতসমূহ এর প্রাপ্য পাওনাদের কাছে পৌঁছে দাও।’ হাদিসে মুনাফিকের অন্যতম কারণ হিসেবে আমানতে খেয়ানত করাকে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার ইমান নেই।’ হাদিসে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি আল্লাহর পথে শাহাদাতবরণ করেন, কিন্তু সে মানুষের আমানত না বুঝিয়ে মারা যান। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে বলবেন, মালিকের কাছে আমানত ফেরত দাও। কিন্তু সে মালিককে খুঁজে পাবে না। তখন আমানতের বোঝা তার মাথায় চাপিয়ে দিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ এ লোক বান্দার অধিকার নষ্ট করার কারণে জাহান্নামের ভাগী হলো।
ইমানের অনিবার্য দাবি হলো, বিশ্বস্ত হওয়া, আমানতে খেয়ানত না করা। ইসলামী জীবন পদ্ধতির সব কিছুর সঙ্গে আমানতদারির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা, সরকারি ও বেসরকারি দাফতরিক কাজ-কর্ম, শিক্ষকতা, সমাজের নেতৃত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্য, মজুরি, শ্রম-মেহনত, দেশপ্রেম ইত্যাদি সবই আমানত। তাই প্রত্যেকের জন্য আমানতদার হওয়া জরুরি। আমানতদার ব্যক্তি সমাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশংসনীয়, সুনামি ও সুখ্যাত। আমানতদারি এমন এক মহৎ গুণ, যার ওপর উন্নতি ও সমৃদ্ধি নির্ভরশীল। পক্ষান্তরে সমাজে খেয়ানত বেড়ে গেলে অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
আজ আমাদের সমাজে কেউ যেন কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। কারোর ওপর নির্ভর করা যায় না। আমানতদারিতার অভাব প্রকটভাবে সমাজে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইমানদারের এই মৌলিক গুণটির অভাবের কারণেই সমাজের অবস্থা পতনোš§ুখ। এ থেকে উত্তরণের জন্য সবার উচিত আমানতদারিতা বজায় রাখা। খেয়ানত ও বিশ্বাসঘাতকতা থেকে বেঁচে থাকা।
– লেখক : আলেম