‘আমরা সন্ত্রাসী নই, গরীব মুসলিম হওয়ার কারণেই টার্গেটের শিকার’

জম্মুতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা মুসলিমদের পক্ষ থেকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এক আবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কেবলমাত্র মুসলিম হওয়ার জন্যই তাদের টার্গেট করা হচ্ছে।

জম্মুতে বসবাসরত প্রায় ৭ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর পক্ষ থেকে দায়ের করা ওই আবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এমনকি জম্মুতে বাস করার সময় তাদের বিরুদ্ধে এ ধরণের কোনো অভিযোগও নেই। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসী কাজকর্মে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই।

সুপ্রিম কোর্টে জানানো আবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় পুলিশ এক বছর আগেই রোহিঙ্গা পরিবারে গভীরভাবে তদন্ত করেছিল। পুলিশ প্রত্যেক পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রত্যেক মাসেই পুলিশ তা খতিয়ে দেখে থাকে। সমস্ত রোহিঙ্গা এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে এবং সব ধরনের তথ্য প্রদান করে।

ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে আবেদনকারীরা তাকে ‘সমান অধিকার বিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা গরীব এবং মুসলিম বলেই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ ব্যাপারে আগামী সোমবার শুনানি হবে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কমপক্ষে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী বাস করছেন বলে কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকায় এদের চিহ্নিত করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ওই পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে রিপোর্ট তলব করাসহ বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে ভারত। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের ৩৬তম সম্মেলনের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেইন নয়াদিল্লির সমালোচনা করে বলেছিলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলা বর্বর অত্যাচার ও গণহত্যার মধ্যে তাদের আশ্রয় না দিয়ে ভারত থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক নয়।

জেইদ রা’দ আল হুসেইনের এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের প্রতিনিধি রাজীব কুমার চান্দের মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি (আল হুসেইন) ‘পূর্বানুমান-এর ভিত্তিতে ভারতের সমাজকে বিচার করতে চাচ্ছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার রোহিঙ্গা ইস্যু এবং ভারতের সাম্প্রতিক কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে ভারতের নিন্দা করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বার্তা দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রাজীব কে চান্দ কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করে বলেন, ভারত তার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, মুক্ত গণমাধ্যম, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধার জন্য গর্বিত। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার উদাহরণ দিয়ে ভারতীয় সমাজের বৃহত্তর ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

মানবকণ্ঠ/জেডএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.