আবারো হার খুলনার


কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পর চিটাগং ভাইকিংসের কাছে হেরে সিলেট পর্ব শেষ করল খুলনা। বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করে মাহমুদউল্লাহদের বিপক্ষে ২৬ রানে জিতেছে চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজি। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় পেল মুশফিকবাহিনী।

সিলেট পর্বের শেষদিনে রানের ফুলঝুরি দেখলো দর্শকরা। দিনের প্রথম ম্যাচের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙে গেল পরের ম্যাচেই। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে চলতি আসরের সর্বোচ্চ রান তুললো চিটাগং ভাইকিংস। রান পেয়েছেন ব্যাট করতে আসা সব ব্যাটসম্যান। শাহজাদ-ডেলপোর্ট-ইয়াসির-মুশফিক-শানাকা-নাজিবুল্লাহ সবার ব্যাটেই চলেছে সমান তালে। খুলনার বোলারদের তুলোধুনা করে ২১৪ রানে থেমেছে ভাইকিংসরা। জবাবে ২৬ রানেই হারতে হয়েছে খুলনাকে।

শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২২তম ম্যাচে টসে জিতে খুলনা টাইটানসকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৩ রান করে চিটাগাং ভাইকিংস। দলীয় ১৭ রানে শরিফুল ইসলামের বলে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার ক্যামেরন ডেলপোর্ট।

এরপর ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটিং তাণ্ডব চালান শেহজাদ। দলীয় ৫৬ রানে তাইজুলের বলে ব্রেন্ডন টেইলরের ক্যাচ হয়ে ফেরেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ১৭ বলে তিন চার ও সমান ছক্কায় ৩৩ রান করেন শেহজাদ। এরপর ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৮৩ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম। ৩৬ বলে পাঁচ চার ও তিন ছক্কায় ৫৪ রান করে ডেভিড ওয়াইজের বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন ইয়াসির।

তার বিদায়ের পর ২৯ বলে ফিফটি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। ব্যক্তিগত ৫২ রানে ডেভিড ওয়াইজের দ্বিতীয় শিকার হন ভাইকিংস অধিনায়ক। তার অর্ধশতকটি ছিল আট চার ও এক ছক্কায় সাজানো।

ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে দলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর উপহার দেন দাসুন শানাকা। মাত্র ১৭ বলে তিন চার ও চার ছক্কায় ৪২ রান করে অপরাজিত থাকনে চিটাগাংয়ের এই শ্রীলংকান। ৫ বলে ১৬ রান করেন নজিবুল্লাহ জাদরান।

২১৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই খেই হারালো খুলনা টাইটানস। মাত্র ১৮ রানে টপঅর্ডারের তিন উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে আশা দেখে খুলনা। মাত্র ২৫ বলে ৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন দেশের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান। তার ইনিংসটি ছিল তিনটি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো।

দলীয় ৮৬ রানে ২৮ রান করে ফেরেন টেইলর। এরপরেই ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যক্তিগত ১১ রান করেই ফিরতে হয়েছে আরিফুলকে। এরপর শুরু হয়েছে উইজি ঝড়। ২০ বলে ৪০ রান করে ফেরেন এই মারকাটারি হিটার। শেষদিকে তাইজুল-শরিফুলে রানের ব্যবধানই কমিয়েছেন। কারণ ততক্ষণে জয়টা সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। এই হারে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই থাকতে হচ্ছে খুলনাকে। আর পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উন্নীত হল চিটাগং ভাইকিং।

মানবকণ্ঠ/এআর