আন্দোলনের মধ্যে তড়িগড়ি করে ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে নেয়া ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের আন্দোলনের মধ্যেই তড়িগড়ি করে ফল প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবছর ‘ঘ’ ইউনিটে অন্য ইউনিটগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও সবচেয়ে কম সময়ে ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

রোববার দুপুরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কোন তদন্ত কমিটি না করেই দুই ঘণ্টার নোটিশে এ ফল প্রকাশ করা হয়। তাছাড়া অন্য ইউনিটগুলোর ফল প্রকাশের খবর একদিন আগে জানালেও রোববার ফল প্রকাশের দুই ঘণ্টা আগে ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশের খবর জানানো হয়। দুপুর সোয়া দুইটার দিকে কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যালয়ে এ ফল প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। এদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সোহেল রানা ও লুৎফর রহমান এক সাংবাদিককে ধরে পুলিশে দিতে চেয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে নেয়ার দাবিতে উপাচার্যের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করতে যান প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। তাদের আসার খবর পেয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের গেটে তালা মারে প্রশাসন। আন্দোলনকারীরা তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে উপাচার্যের কক্ষের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোন তদন্ত না করে ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। উপাচার্যের সঙ্গে দেখা না করে স্থান ত্যাগ করবেন না বলে জানান আন্দোলনকারীরা। কিছুক্ষণ পর উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আন্দোলনকারীরা উপাচার্যকে বলেন, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত থাকায় তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তাছাড়া শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো প্রমাণসহ প্রশ্নফাঁসের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাই এ বিষয়ে কোন তদন্ত কমিটি গঠন না করে ফল প্রকাশ করা কোন মতেই মেনে নেয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ব্যর্থতার দায়ভার কেন শিক্ষার্থীরা নেবে? যদি এই অবস্থায় ফল প্রকাশ করা হয় তবে ছাত্রধর্মঘট ডাকা হবে।

জবাবে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নফাঁস হয়নি, ফাঁসের কোন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি। এটা একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র। যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত নন। জালিয়াতিতে ব্যবহার্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহের অপরাধে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য চক্রান্ত করছে তাদের খোঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

এর আগে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (বাসদ) ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলাভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

প্রকাশিত ফলে দেখা যায় এবার ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় তিনটি শাখার অংশগ্রহণকারী ৭১ হাজার ৫৪৯ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১০ হাজার ২৬৪ জন আবেদনকারী, যার পাশের হার ১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর মধ্যে মানবিক শাখা থেকে পাশের হার সবচেয়ে বেশি ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ, কম ব্যবসায় শাখায় ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

উপাচার্য জানান, পাশকৃত শিক্ষার্থীদের আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত ওয়েবসাইটে বিস্তারিত ফরম ও বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণ করতে হবে। উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের কোটার ফরম ২৩ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিস থেকে সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে। ফলাফল নিরীক্ষণের জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে আবেদন করা যাবে। এই সংক্রান্ত ফলাফল আগামী ১ নভেম্বর অনুষদ অফিসে প্রকাশ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/বিএএফ