আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ

জনগণের দাবি ছিল রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের। সেই দাবি মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রংপুরের বধূমাতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বিল-২০১৮ পাস করা হয়। তারপর দাবিটি এখন পূরণ হওয়ার পথে হাঁটছে। ৫১৭ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপির) দায়িত্ব পালন করবে ৬টি থানা নিয়ে। এরই মধ্যে নিয়োগ দেয়া হয়েছে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ২ জন উপপুলিশ কমিশনার।

কমিশনার নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি মাসের শেষের দিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। নগরীর ধাপ পুলিশ ফাঁড়িতে স্থাপিত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অস্থায়ী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে ১ হাজার ১শ’ জন জনবল থাকছে মেট্রোপলিটন পুলিশের। চাহিদা অনুযায়ী আরো বাড়ানো হবে। এর মধ্যে একজন পুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। ২ জন উপপুলিশ কমিশনার, ৬ জন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, ১২ জন সহকারী পুলিশ কমিশনার, ২০ জন ইন্সপেক্টর, ১২০ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ১০ জন সার্জন, ১৫০ জন এএসআই, ১০ জন নায়েক, ৭০ জন এটিএসআই, ৭৫০ জন কনস্টেবল এবং অন্যান্য পদে (নন-পুলিশ) ৩৩ জন। এ ছাড়াও থাকবে ১০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৮টি পুলিশ বক্স। ১২৩টি যানবাহন। এরই মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে আবু সুফিয়ান, উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে কাজী মোত্তাকি ইবনু মিনান ও মহিদুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৭টি থানার মধ্যে রয়েছে কোতোয়ালি, পরশুরাম, হাজীরহাট, মাহিগঞ্জ, হারাগাছ এবং তাজহাট।

সিটি এলাকা ছাড়াও সদর, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগাছার অংশ বিশেষ আরএমপির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এক, কোতোয়ালি থানার অধীনে থাকবেÑ সিটি কর্পোরেশনের কেল্লাবন্দ (আংশিক), ভগি (আংশিক), নিসবেতগঞ্জ, ধাপ, চিকলীভাটা, রাধাবল্লভ, কাছারি বাজার, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, সেনপাড়া, গুপ্তপাড়া, নুরপুর, তেঁতুলতলা, চামড়াপট্টি, আলমনগর, বাবুপাড়া (আংশিক), গনেশপুর, দোলাপাড়া, কলেজপাড়া (আংশিক), বাবুখাঁ, সাতগাড়া, দেওডোবা (আংশিক), বিনোদপুর (আংশিক), পীরজাবাদ, রামপুরা, ভগিবালাপাড়া, ইসলামপুর, নীলকণ্ঠ, পান্ডারদীঘি (আংশিক), মুন্সিপাড়া, কেরানীপাড়া, গুড়াতিপাড়া, মুলাটোল, জুম্মাপাড়া, কামালকাছনা, শালবন, বাহারকাছনা, রবার্টসন্সগঞ্জ, রংপুর সদরের চন্দনপাট ইউনিয়ন, সদ্য পুষ্করণী ইউনিয়ন ও বদরগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়ন। দুই, পরশুরাম থানার অধীনে থাকবে কোবারু, চব্বিশ হাজারী, পান্ডারদিঘী (আংশিক), হারাটি, খটখটিয়া, কাইদাহারা, আরাজি পশুয়ারী, আমাশু কুকরুল, বালাকুমার, বিনোদ জলছত্র, পরশুরাম, আটিয়াটারী, নওহাটি কাছনা, বাহার কাছনা ও চওরারহাট। তিন, হাজীরহাট থানার অধীনে থাকবে- বারঘরিয়া, হরিরাম পিরোজ, মনোহর, অভিরাম, শেখটারী, গোয়ালু, নিয়ামত (আংশিক), পান্ডারদীঘি (আংশিক), উত্তম রনচন্ডি, চক ইসবপুর, নজিরের হাট, কামদেবপুর, পশ্চিম গিলাবাড়ী, পূর্ব গিলাবাড়ী, জগদিশপুর, বখতিয়ারপুর, বিন্নাটারী, কেরানীরহাট, ভবানীপুর, রাধাকৃষ্ণপুর গোপিনাথপুর (আংশিক), সদরের হরিদেবপুর ইউনিয়ন, মমিনপুর ইউনিয়ন ও খলেয়া ইউনিয়ন। চার, মাহিগঞ্জ থানার অধীনে থাকবে- মাহিগঞ্জ, ধুমখাটিয়া, ডিমলা, নাছনিয়া, দহিগঞ্জ, বীরভদ্র বালাটারী, দেওয়ানটুলি, দেওয়ানটুলি ফতেপুর, সাতমাথা, আরাজি মন্ত্রীর খামার, মহিন্দ্রা, তালুক বকশি, রাজুখাঁ, আজিজুল্লাহ, হোসেন নগর, তালুক রঘু, মেকুরা, নব্দিগঞ্জ, পীরগাছার কল্যাণী ইউনিয়ন ও পারুল ইউনিয়ন। পাঁচ, হারাগাছ থানার অধীনে থাকবে- বেনুঘাট, জমচওড়া, গুলালবুদাই, বুদাই, কার্তিক, চানকুঠি, চব্বিশ হাজারী (আংশিক), আরাজি গুলালবুদাই, তপোধন, মহব্বত খাঁ, চিলমন, বধূ কমলা, সাহেবগঞ্জ, কাছনা, বীরচরণ, মহাদেব, রাম গোবিন্দ (আংশিক), কাউনিয়ার সারাই ইউনিয়ন ও হারাগাছ পৌরসভা। ছয়, তাজহাট থানার অধীনে থাকবে কেডিসি রোড, খেড়বাড়ি, বাবুপাড়া (আংশিক), তাজহাট, পাটবাড়ি, আশরতপুর, পার্কের মোড়, লালবাগ, বড় রংপুর, তালুক ধর্মদাস, তালুক তামপাট, নগর মীরগঞ্জ, খোর্দ্দ তামপাট, খোর্দ্দ রংপুর, কলেজপাড়া, দর্শনা, ঘাঘটপাড়া, আক্কেলপুর, বিনোদপুর (আংশিক), মানজাই, কিসামত বিষু, নাজিরদিগর, পানবাড়ী, আরাজি দাস, শেখপাড়া, মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দও রানীপুকুর ইউনিয়ন।

আরএমপি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে কোতোয়ালি থানাতে কোতোয়ালি, মাহিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে মাহিগঞ্জ থানা, হারাগাছ পুলিশ ফাঁড়িতে হারাগাছ থানা এবং ভাড়া করা বাড়ি নিয়ে নগরীর বুড়িরহাট রোডের কদমতলীতে পরশুরাম থানা, উত্তম ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হাজিরহাট থানা এবং মডার্ন মোড়ে তাজহাট থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাঁটানো হয়েছে সাইনবোর্ড। এ ছাড়াও বুড়িরহাট রোডে অধুনা লুপ্ত রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ক্যাম্পাস ভাড়া নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনের কার্যক্রম চলছে। হাজতখানা এবং অস্ত্রাগার কোথায় নির্মাণ করা হবে তার সম্ভাব্যতা যাছাই করা হচ্ছে। সব এলাকায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নিজ নিজ থানার নামে সাঁটানো হয়েছে সাইনবোর্ড। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান জানান, রংপুরবাসীর জীবন শান্তিময় ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুর মেট্রোপুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। আমরা সে লক্ষ্যেই প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

মানবকণ্ঠ/এসএস