আদালতে আসতে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়া

আদালতে আসতে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়া

কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসতে অনিচ্ছুক বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বলছেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি।

বুধবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরানের আদালতে খালেদা জিয়াসহ সব আসামির উপস্থিতিতে মামলাটির চার্জ শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করতে না পারায় কাস্টডি পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবীরের স্বাক্ষরিত কাস্টডিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট বন্দি বিজ্ঞ আদালতে আসতে অনিচ্ছুক।’

এদিন বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য ধার্য রয়েছে। উচ্চ আদালতের সকল আদেশ চলে এসেছে। আমরা চার্জ শুনানি শুরু করি।

তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, আমরা মামলার এজাহার, চার্জশিটসহ অন্যান্য কাগজের জন্য আবেদন করেছি। তার মধ্যে চার্জশিটের কপি ঠিকই পেয়েছি। যেসকল কাগজপত্র আমরা পেয়েছি চার্জ শুনানির জন্য যথেষ্ট নয়। শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট আরো কাগজপত্র দরকার।

মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, তাদের যে কাগজপত্র প্রয়োজন তারা তা নিচ্ছেন। সব কাগজ পেলে পরবর্তী সময়ে চার্জ শুনানি করবেন।

এরপর মাসুদ তালুকদার বলেন, প্রাক্তন মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক সিঙ্গাপুরে আছেন। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। সেজন্য তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। এজন্য সময় আবেদন করেন তিনি।

তখন বিচারক বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তো দেননি। জবাবে মাসুদ তালুকদার বলেন, তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আজই এ বিষয়টি জানিয়েছেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৯ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

মামলার কার্যক্রম শেষে মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, আপনারা জানেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না। তিনি অসুস্থ, এ কারণে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে আজ আদালতে উপস্থিত করতে পারেনি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।

এর আগে মামলা বাতিলে আমিনুল হকের করা আবেদনের রুল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এই মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের সংখ্যা ১৩ জন। কিন্তু জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ১১ জন।

গত ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম।

পরে এ মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট বেঞ্চ বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। একই বছরের ৫ অক্টোবর আদালতে এ মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.