আজ শুরু এশিয়ান আরচ্যারি

আজ থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপের ২০তম আসর। এবারের আসরের আয়োজক বাংলাদেশ। ৩৫ দেশের আরচারদের অংশগ্রহণে আরচ্যারি ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ই আসর এখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ঢাকায় পা রেখেছে দলগুলো। মঞ্চ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম প্রস্তুত। প্রস্তুত বিভিন্ন দেশের আরচাররাও। আজ ম্যাচ ভেন্যুতে অন্যান্য দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশও। টুর্নামেন্টে পদক জয়ের সম্ভাবনা নেই বাংলাদেশের। সেই স্বপ্ন দেখছেও না। ৩৫ দেশের মধ্যে সেরা দশে থাকলেই খুশি। তবে ব্যক্তিগত রিকার্ভ ইভেন্টে সেমির স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

দুই বছর আগে এই আসরটি অনুষ্ঠিত হয় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে। সেবার তালিকায় সেরা ১০-এ ছিল বাংলাদেশ। আর রিকার্ভ ইভেন্টে দেশসেরা আরচার রোমান সানা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বাদ পড়েন। এবার এই আরচারকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছে সবাই। রোমান নিজেও আশাবাদী পূর্ব ফল ছাড়িয়ে যাওয়ার। এ ব্যাপারে রোমান সানা বলেন, এশিয়ান আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপে শুধু এশিয়ার নয়, বিশ্বসেরা আরচাররাও অংশ নেন। আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে। তবে ম্যাচ ভেন্যুতে অনুশীলনের ঘাটতি আছে। সব মিলে আশাবাদী এবার সেমিফাইনালে যেতে পারব।

টঙ্গীতে নিজস্ব আরচ্যারি গ্রাউন্ডে দীর্ঘ ৮ মাস অনুশীলন করেছে বাংলাদেশের আরচাররা। কোচ নিশীথ দাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন রোমান, তামিমুল, মামুন, বিউটিরা। ছিলেন আরচ্যারির দুই সেরা তারকা সজিব শেখ এবং শ্যামলী রায়ও। তবে টুর্নামেন্টের জন্য ঘোষিত ১৮ সদস্যের বাংলাদেশ দলে ঠাঁই হয়নি এ দু’জনের। বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই মূলত বাদ পড়েছেন তারা। দলের দুই সিনিয়র আরচার বাদ প্রসঙ্গে কোচ নিশীথ দাস বলেন, ‘প্রত্যেক সপ্তাহে আমরা তিনটি করে টেস্ট করেছিলাম। শেষ দিকে এসে শ্যামলী রায় ও সজীব শেখ তাদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেনি। তাই সিনিয়র হয়েও বাদ পড়েছে তারা।’ তবে জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী হীরামনি অসুস্থতার জন্যই দলে আসতে পারেননি। এক মাস ধরেই চিকুনগুনিয়ায় ভুগছেন তিনি।

স্বাগতিক হয়েও স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা নিতে পারেনি বাংলাদেশ। কারণ নিজ দেশে খেলা হলেও মূল ভেন্যুতে অনুশীলন করার সুযোগ পায়নি এতদিন। আজ সবার সঙ্গে সেই সুযোগ পাচ্ছেন লাল সবুজের তীরন্দাজরা। তবে আগে থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে পারলে ভালো হতো বলেই মনে করেন আরেক কোচ জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের তুলনায় মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম ছোট। এখানে বাতাস চারদিকে ঘুরে। ফলে তীর লক্ষ্যভেদ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই খোলামেলা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলনটা বড় প্রয়োজন ছিল।’ এশিয়ান আরচ্যারিতে পদক জয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে স্বাগতিকদের। তবে আশানুরূপ ফল এনে দিতে পারেন রোমান সানা, তামিমুল ইসলাম এবং ইব্রাহিম। তা ছাড়া রিকার্ভ পুরুষ এবং কম্পাউন্ড পুরুষ ও মহিলা দলগতেও স্বাগতিকদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন নিশিথ দাস, ‘দলগত ইভেন্টে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছি। তা ছাড়া রোমান সানাকে নিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্নও দেখছি।’ তরুণদের প্রসঙ্গে নিশীথ দাস বলেন, ‘তরুণ আরচাররা খুবই ভালো করছে। তাই যোগ্যতা অর্জন করেই দলে জায়গা করে নিয়েছে। তাছাড়া এত বড় টুর্নামেন্টে সুযোগ পেয়ে ওরাই খুশি। আশা করি আমার প্রত্যাশানুযায়ী তারা খেলবে।’

২০০১ সালে বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের যাত্রা শুরু। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ ঠিক চার বছর পর। মাত্র ১৬ বছর বয়সী ফেডারেশন নিজেদের দক্ষতা এবং ক্যারিশমায় এশিয়ান আরচ্যারির মতো বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছি। এই ফেডারেশনের আরচাররা ইতোমধ্যে অলিম্পিকে খেলে নামের প্রতি সুবিচার করেছে। দেশ-বিদেশ থেকে নানা সময় বিভিন্ন সাফল্য বয়ে এনেছে। এখন পালা ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এশিয়ান আরচ্যারিতে সাফল্য বয়ে আনার। রোমান, তামিমুলরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে তো?

মানবকণ্ঠ/আরএ