আজ থেকে পরিবর্তনের ছোঁয়া নামে আর স্থানে

আজ থেকে পরিবর্তনের ছোঁয়া নামে আর স্থানে

আজ সোমবার থেকে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগছে নামে আর স্থানে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নামের সঙ্গে একটি বিষয় যোগ হচ্ছে। আর তা হলো এখন থেকে এই মন্ত্রণালয়ের নাম হবে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। আর স্থানের পরিবর্তনের বিষয়টি হচ্ছে, সচিবালয়ে এক নম্বর ভবনে চারতলায় প্রধানমন্ত্রীর একটি কার্যালয় ছিল। আজ থেকে তা স্থানান্তর হয়ে ছয় নম্বর ভবনের ১২ তলায় যাচ্ছে। আর এখানে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠক হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। কি কারণে স্থানান্তর হলো এ ব্যাপারে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অপর এক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক নম্বর ভবনের যেখানে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো তা অনেকখানি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ভবনটির ওপরে টিনের যে শেড রয়েছে তা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। আর ঝুঁকিপ্রবণ এই ভবনটির কথা অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। এই ভবনে প্রধানমন্ত্রীর একটি কার্যালয় রয়েছে। সবকিছু চিন্তা-ভাবনা করেই ছয় নম্বর ভবনের ১২ তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব যথারীতি প্রথম ভবনের চারতলায় অফিস করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে ছয় নম্বর আজ থেকে পরিবর্তনেরভবনের ১২ তলায় অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ একটি উইং ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা সংক্রান্ত অপর একটি উইং ছিল। বেশ কিছুদিন আগেই এই দুটি উইং অর্থ ভবন নামে ভবনে স্থানান্তর করেছে। ফলে এই ১২ তলা এতদিন ফাঁকা ছিল।

এদিকে, আজ নতুন এই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম যে মন্ত্রিসভা বৈঠক হতে যাচ্ছে সেখানে প্রথম এজেন্ডা হিসেবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। পরিবর্তিত মন্ত্রণালয়ের নাম হতে যাচ্ছে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়’। কোন প্রেক্ষাপটে এই নাম পরিবর্তন হচ্ছেÑ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পরিবেশ সুরক্ষা বৈশ্বিক ধারণা ও কর্মকৌশলে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি বিগত দুই দশকের বেশি সময় ধরে গুরুত্ব পেয়ে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হওয়ায় এই ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষতির বিষয়টি উপস্থাপন করে আসছে। একইসঙ্গে অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়মিতভাবে উপস্থাপন করে আসছে। আর এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে ফোকাল মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারি কর্মকাণ্ডের সমন্বয়কারী ও আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রতিনিধিত্বকারী মন্ত্র্রণালয়ের নামে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দ দুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, গ্রিস, ইথিওপিয়া, গাম্বিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের উদাহরণ তুলে ধরেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় পরিবেশ কমিটির চতুর্থ সভায় এই মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সেসময় বিষয়টির যুক্তি তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আরো সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পরিবেশ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বছরের ২৯ অক্টোবর এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভা থেকে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদন করা হয়। এই কমিটি মনে করে, জলবায়ু পরিবর্তন শব্দ দুটি একত্রে ব্যবহার আন্তর্জাতিক ও সরকারি-বেসরকারি যোগাযোগ সর্বজনস্বীকৃত। আর এটি অধিকতর যৌক্তিক।

অন্যদিকে, আজ ছয় নম্বর ভবনের ১২ তলায় প্রথম মন্ত্রিসভা নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ দীর্ঘদিন যাবত মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মাঝে সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু যানজটের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই আবার নিজের কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক নিয়ে যান। আজ নতুনভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হতে যাচ্ছে। তবে এই ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গতকাল রোববার থেকেই করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২টি লিফট আলাদা রাখা হয়েছে শুধুমাত্র আজকের বৈঠকের জন্য। এই ভবনের এতগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য ৪টি লিফট যথারীতি চালু থাকবে বলে জানা গেছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে চলাচলের ওপর কিছু সময়ের জন্য বিধি-নিষেধ থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকের যে ৪টি এজেন্ডা রয়েছে কাকতলীয়ভাবে সবগুলো একই মন্ত্রণালয়ের। অর্থাৎ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, গাছ কাটার অনুমোদন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলায় বন অধিদফতরের নামে রেকর্ড করা সংরক্ষিত বনভূমির গাছপালা কাটা ও অপসারণ। এর পাশাপাশি গাজীপুর জেলায় কাপাসিয়া উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য গাছ কাটা ও অপসারণ।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.