আজীবন সম্মাননা পেলেন ফারুক ও ববিতা

আজীবন সম্মাননা পেলেন ফারুক ও ববিতা

গত বছর অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেছিলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। এ ধারাবাহিকতায় এ বছরও পূর্ণিমা উপস্থাপনা করেন। তবে বদল হয়েছে সহউপস্থাপকের। চঞ্চলের বদলে এবার পূর্ণিমার সঙ্গে উপস্থাপনায় ছিলেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

অন্যদিকে চঞ্চল চৌধুরীও মঞ্চে উঠেছেন। তবে সেটি উপস্থাপনা নয়, সেরা অভিনেতার পুরস্কার গ্রহণ করতে। অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সেরা অভিনেতা ছাড়াও সেরা পরিচালক, সেরা চিত্রগ্রাহকসহ একই চলচ্চিত্রটি মোট ৭টি পুরস্কার পেয়েছে। এর আগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে নায়ক ফারুক ও নায়িকা ববিতার হাতে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় ৪১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্য থেকে সেরা কাজের জন্য ২৬টি বিভাগে ২৯ জন বিজয়ীর হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্রেস্ট, মেডেল ও চেক তুলে দেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ, তথ্য সচিব আবদুল মালেকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের দিক থেকে বিশ্ব মানের চলচ্চিত্র তৈরি করে এগিয়ে যেতে চাই। তার জন্য যা করা দরকার আমি করে যাব। আমি জানি আমার বাবার হাতে তৈরি করা এই এফডিসি। তাই এই শিল্পের জন্য যা যা করা দরকার আমার পক্ষ থেকে করে দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আমাদের যে সংগ্রাম তা তুলে ধরা প্রয়োজন। এ সময় তিনি চলচ্চিত্র শিল্পীদের কাছে যেতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। এবং যারা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যারা পাবেন তাদের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

চলচ্চিত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে অনেক কথা বলা যায়। সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখা যায়। একটা সময় একটা কারণে এই চলচ্চিত্র দেখা বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন কিন্তু আবার চলচ্চিত্রের জগতটা ফিরে আসছে। আমি আশা করি আমাদের চলচ্চিত্র আধুনিক হবে। চলচ্চিত্রের শিল্পীরা আরো আধুনিক হবেন। কারণ, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। সুতরাং আমি আশা করি চলচ্চিত্র উন্নত হোক, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যাক। আমি দেখেছি দেশে অনেক ভালো চলচ্চিত্র হয়। সব সময় তো সিনেমা দেখার সুযোগ হয় না। যখন বিমানে করে যাই তখন অবশ্যই সিনেমা দেখি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল তথ্য মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬’-এর বিজয়ীদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করে। পুরস্কার অর্জনের দিক দিয়ে এবার দ্বিতীয় স্থানে আছে নাদের চৌধুরী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’। সেরা গীতিকার, সেরা সুরকার ও সেরা সংগীত পরিচালকসহ চারটি পুরস্কার জিতেছে এ ছবি। তবে এবারের আসরে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ও তৌকীর আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’। সেরা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছবিটি সেরা কাহিনীকার ও সেরা খল অভিনেতার পুরস্কারও জিতে নিয়েছে। এ আসরে গৌতম ঘোষের ‘শঙ্খচিল’ চলচ্চিত্রও পেয়েছে তিনটি পুরস্কার।

এ ছাড়া এবার সম্মাননার জন্য তৈরি মেডেলের সোনার ক্যারেট বেড়েছে। নিয়মিতই ১৮ ক্যারেট দেয়া হলেও এবার এটা হয় ১৯ ক্যারেটে। এর আগে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও চলচ্চিত্র বিভাগের অ্যাডমিন মোহাম্মদ আজহারুল হক। তিনি বলেন, ‘এবার ১৯ ক্যারেটের সোনার মেডেল তৈরি করা হয়েছে। সাধারণত ১৮ ক্যারেট দেয়া হয়। মেডেলের গুণগত মান জানতে এবার আণবিক কেন্দ্র থেকে এগুলো পরীক্ষা করিয়ে আনিয়েছি।’

যারা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ পেলেন তারা হলেন- আজীবন সম্মাননা: ববিতা ও ফারুক। শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: ঘ্রাণ (প্রযোজক এসএম কামরুল আহসান), প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: জন্মসাথী (প্রযোজক একাত্তর মিডিয়া লি. ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর), পরিচালক: অমিতাভ রেজা চৌধুরী (আয়নাবাজি), অভিনেতা প্রধান চরিত্র: চঞ্চল চৌধুরী (আয়নাবাজি), অভিনেত্রী প্রধান চরিত্র: যৌথভাবে তিশা (অস্তিত্ব) ও কুসুুম শিকদার (শঙ্খচিল), পার্শ^ চরিত্রাভিনেতা: যৌথভাবে আলীরাজ (পুড়ে যায় মন) ও ফজলুর রহমান বাবু (মেয়েটি এখন কোথায় যাবে), পার্শ্ব চরিত্রাভিনেত্রী: তানিয়া আহমেদ (কৃষ্ণপক্ষ) খল-অভিনেতা: শহীদুজ্জামান সেলিম (অজ্ঞাতনামা), শিশুশিল্পী: আনুম রহমান খান সাঁঝবাতি (শঙ্খচিল), সংগীত পরিচালক: ইমন সাহা (মেয়েটি এখন কোথায় যাবে), গায়ক: ওয়াকিল আহমেদ (দর্পণ বিসর্জন), গান: অমৃত মেঘের বারি, গায়িকা: মেহের আফরোজ শাওন (যদি মন কাঁদে, ছবি: কৃষ্ণপক্ষ), গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার (বিধিরে ও বিধি, ছবি: মেয়েটি এখন কোথায় যাবে), সুরকার: ইমন সাহা (বিধিরে ও বিধি), কাহিনীকার: তৌকীর আহমেদ (অজ্ঞাতনামা), সংলাপ রচয়িতা: রুবাইয়াত হোসেন (আন্ডার কনস্ট্রাকশন), চিত্রনাট্যকার: অনম বিশ্বাস ও গাউসুল আলম (আয়নাবাজি), সম্পাদক: ইকবাল আহসানুল কবির (আয়নাবাজি), শিল্প নির্দেশক: উত্তম গুহ (শঙ্খচিল), চিত্রগ্রাহক: রাশেদ জামান (আয়নাবাজি), শব্দগ্রাহক: রিপন নাথ (আয়নাবাজি), পোশাক ও সাজসজ্জা: যৌথভাবে সাত্তার ও ফারজানা সান (নিয়তি ও আয়নাবাজি), মেকাপম্যান: মানিক (আন্ডার কনস্ট্রাকশন)। এ ছাড়া নানা বিতর্কের কারণে নৃত্য পরিচালকের ক্যাটাগরি বাদ দেয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস