আগাম নির্বাচন দেয়ার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, যাতে আগাম নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি দেশের মানুষ ভোট দেয় তাহলে আবারো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে। তবে জনগণ ভোট না দিলেও কিছু করার নেই। আমরা দেশটাকে স্বাধীন করেছি, স্বাধীনতার চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ব। তারপর জনগণের ইচ্ছা কাকে ভোট দেবে। আমি নিজেই তো স্লোগান দিয়েছি যে আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব। কাজেই ভোট দিলে আছি না দিলে নাই।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত তিন দিনব্যাপী কম্বোডিয়া সফরের বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের প্রধান সড়কটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করা হয়েছে। দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে এই নামকরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, বাংলাদেশের গুলশানের একটি পার্ক রোডের নামও দেশটির প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের নামে করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, খালেদা জিয়া কি ক্ষমা করেছেন না কি ক্ষমা চেয়েছেন- সেটি স্পষ্ট নয়। তিনি গ্রেনেড হামলা করে আমাকে মারতে চেয়েছেন, মাটিতে বোমা পুঁতে মারতে চেয়েছেন, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন। তিনি কি এসব বিষয়ে ক্ষমা চাইছেন।

তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) অভিযোগ করেছেন আমি নির্বাচন থেকে সরানোর জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি। কিন্তু আমার সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেয়নি। বরং তার সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে ডজন খানেকের বেশি মামলা দেয়া হয়েছে। আর যারা মামলা দিয়েছে মঈন উদ্দিন, ফখরুদ্দিন তাদের নিজেদের লোক। মামলায় থেকে তার পলায়নপর নীতি আপনারা তা দেখেছেন। কোর্টে যাওয়া নিয়েও তাণ্ডব হয়েছে। এর আগে আওয়ামী লীগের এমপির গাড়ি ভাঙচুর করেছে, আগুন দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছে আসিয়ান সদস্যরা।

গত ৩ ডিসেম্বর কম্বোডিয়া সফরে যান শেখ হাসিনা। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে গত ৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। এর দুই দিনের মাথায় সফরের বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি।

এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক হবে বলে আশার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিদেশ সফর শেষে বরাবর সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মাঝে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে সংবাদ সম্মেলন করেননি শেখ হাসিনা। লিখিত বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস