আগামী সপ্তাহে জামিন চাইবেন সাক্কু

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সদ্য নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু মামলা নিষ্পত্তির জন্য আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে জামিন চাওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে যাননি। আগামী সপ্তাহের শুরুর যে কোনো দিন তিনি মামলার নিষ্পত্তির ব্যাপারে আদালতে জামিন আবেদন করবেন বলে জানান মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউছুফ মোল্লা টিপু।
এদিকে বুধবার মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা পৌঁছেছে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায়। গ্রেফতারি পরোয়ানার  ওয়ারেন্ট কপি থানায় পৌঁছার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারী সদস্যদের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর কুমিল্লা নগরীর নানুয়াদিঘী পাড়ের বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।
কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, বুধবার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা একটি ওয়ারেন্ট কপি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। ওয়ারেন্ট কপি আমাদের কাছে থাকলেও আদালত যে প্রক্রিয়ায় নির্দেশনা দিবেন, আমরা সেই নিয়ম অনুসরণ করবো। তিনি বলেন, তবে আদালত থেকে যে সব প্রক্রিয়ায় ওয়ারেন্ট আসে, সেভাবে এখনো আসেনি।
এদিকে মঙ্গলবার মেয়র সাক্কু বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও সম্পদ জব্দের আদেশের পর থেকে কুমিল্লা নগরীর নানুয়াদিঘী পাড়ের চারতলা বাসায় কেউ নেই বললেই চলে। তবে মেয়রের ভাই অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকুর পরিবার রয়েছেন ওই বাসায়। অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকুর ছেলে ও মেয়রের ভাতিজা আরফানুল হক অরবিন জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারী সদস্যরা ঘোরাঘুরি করছেন। তাদেরকে গাড়ি পার্কিং করেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কখনো র‌্যাব, কখনো পুলিশের বিভিন্ন স্তরের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখানে টহল দিচ্ছেন।
মনিরুল হক সাক্কুর ভাই অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু জানান, ২০১২ সালের দিকে উচ্চ আদালত বড় ভাই মনিরুল হক সাক্কু ও ভাবিকে মামলাটি নিষ্পত্তি  না হওয়া পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন। সেই জামিন আদেশের কপি আদালতে জমা দেয়া আছে। ‘বেইলবন্ড’ও জমা দেয়া আছে। মামলার নথিতে আদেশের পাতায় তা উল্লেখও আছে। এতো কিছুর পর সেখানে কেন এই ভুল হলো তা বোধগম্য নয়। তিনি জানান, ভাই যে কোনো একদিন ওইসব কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করে জামিন চাইবেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের একটি ফুট ওভার ব্রিজ উদ্বোধন শেষে যোগযোগ মন্ত্রী ওয়াদুল কাদের বলেছেন, আমরা চেয়েছিলাম নতুন নির্বাচন কমিশনারের অধীনে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন। আমরা চাইনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় লাভ করুক। মেয়র সাক্কুর গ্রেফতারি পরোয়ানা সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে যদি দুদক মামলা করে, এটা তাদের আর আদালতের ব্যাপার। আমাদের কিছু করার নেই। ২০০৮ সালের মামলায় সাক্কুর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা কেন করেছে এর জবাব দিতে পারে আইন মন্ত্রণালয়, আদালত এবং যারা মামলা করেছে, দুদক। এসব ব্যাপারে সরকার ও আওয়ামী লীগের কোন ভূমিকা নেই।
উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকার রমনা থানায় দুর্নীতি দমন কমিশন কুমিল্লার সহকারী পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের ২০০৪ সালের ২৬ (২) ও ২৭ (১) আইনে এবং দণ্ডবিধির ১০৯ জরুরি বিধিমালার ২০০৭ এর ১৫ (ঘ) ৫ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সে মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মঙ্গলবার সাক্কুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা।

মানবকণ্ঠ/এসএ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.