আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে নতুন মুখের সম্ভাবনা

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে নতুন মুখের সম্ভাবনা

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা, গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড়, মির্জাপুর ও পিরুজালী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৩ আসন। এই আসনের সর্বশেষ হালনাগাদ হওয়া ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭২০ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ৮৯ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৩১ জন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ১৬৯টি ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে এবার নতুন মুখের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার যারা এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা কখনোই জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। এ দু’দল ছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে অন্য কোনো দলের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণে দেখা যায়নি।

একাধারে ৬ বার স্থানীয় এমপি আলহাজ অ্যাড. রহমত আলী নৌকার টিকিটে এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এলেও এখন তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। তবে দলীয় বিজয়কে অব্যাহত রাখতে এবার এমপির পরিবার থেকেই মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন যাবৎ মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তার ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. জামিল হাসান দুর্জয়। তবে এমপি পরিবারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন সবুজ। তারা দু’জনই গাজীপুর-৩ আসনের মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের প্রচারণায় মুখরিত এখন আসনের সর্বত্রই।

দলীয় নেতাকর্মীরা দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে উঠান বৈঠক ও তৃণমূল উন্নয়ন সভার মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম প্রচারের মাধ্যমে ব্যাপক সারা ফেলেছেন। দলীয় মনোনয়নে প্রতিযোগিতা থাকলেও প্রচার-প্রচারণায় দু’জনের লক্ষ্য ছিল সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করা।

তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুর্গে আঘাত হানতে মরিয়া বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনে ইতিপূর্বে শ্রীপুর থেকে প্রার্থী না দেয়াকে বিএনপির পরাজয়ের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, শ্রীপুরের সাধারণ মানুষ এ উপজেলার বাইরে ভোট দিতে রাজি নন। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা রয়েই গেছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা পীরজাদা মাওলানা এসএম রুহুল আমীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ।

শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জানান, অতীতের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে স্থানীয় এমপির ইমেজের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে অথবা তার পরিবার থেকে প্রার্থী করা খুবই প্রয়োজন। বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে দীর্ঘদিন জামিল হাসান দুর্জয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও তৃণমূল উন্নয়ন সভার মাধ্যমে তিনি শ্রীপুরে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। আমাদের আশা তিনিই মনোনয়ন পাবেন। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ জানান, আমি ছোটবেলা থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের কাছে সব পরীক্ষায় আমি উত্তীর্ণ হয়েছি। তাই দল থেকে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী পীরজাদা মাওলানা এসএম রুহুল আমীন কেন্দ্রীয় ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য। তিনি বলেন, আমি টানা ১৪ বছর পদে থেকে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, বিনিময়ে দল থেকে কিছুই নেইনি। দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে দৃঢ় আশাবাদী। অপরদিকে বিএনপি আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করছি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির পর এখন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আছি। এলাকাবাসী আমাকে আপনজন হিসেবে নিয়েছে। তাকে মনোনয়ন দিলে আসনটি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে উদ্ধার সম্ভব বলে জানান। আরেক প্রার্থী শাহজাহান ফকির, দীর্ঘদিন তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি থাকায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপির কমিটি তারই নেতৃত্বে চলছে। শাহজাহান ফকির বলেন, কেন্দ্র মাঠ জরিপ চালিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে, আর সেটা হলে তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস