আওয়ামী লীগে কোন্দল, বিএনপি শক্ত অবস্থানে, মাঠে নেই জাপা

লালমনিরহাট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমিনরহাট-৩ সংসদীয় আসন। এ আসনে ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ দলীয় কোন্দলের পরও শক্ত অবস্থানে আছে। অন্যদিকে গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা বিএনপিও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এ আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবাই কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর অনুসারী। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধানের আইনি সহযোগিতায় শতাধিক মামলায় জর্জরিত ১০ হাজার নেতাকর্মী এখন জেলহাজতে বাইরে অবস্থান করে জেলায় সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতার পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চেপে বসে বেশ শক্তিমত্তার পরিচয় দিলেও তারা অতি গোপনে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে বলেই প্রতীয়মান হয়। নির্বাচন বিচ্ছিন্ন বিএনপি নিজেদের আরো পরিশুদ্ধ করে আগাম প্রস্ততি নিয়েছে। যে কারণে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

এদিকে লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টিও জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের ছোট ভাই পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বেশি বেশি করে লালমনিরহাটে সফরে আসছেন। এ আসনে বিএনপিতে কোনো কোন্দল না থাকলেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিতে দলীয় কোন্দল রয়েছে। লালমনিরহাটে সরকারি দল আওয়ামী লীগের দৌড়ঝাঁপ দেখে বসে নেই বিএনপি, জাতীয় পার্টি। আর অন্য ছোট দলগুলো বড় দলের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদেরও নির্বাচনী প্রস্তুতি মহড়ায় ব্যস্ত রাখছে।

লালমনিরহাট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলাল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. মতিয়ার রহমান ও নারী এমপি অ্যাড. সফুরা বেগম রুমিসহ একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। জাতীয় পার্টিতে এরশাদের ছোট ভাই সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম মিঠু প্রার্থী হতে পারেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগ স্থানীয়ভাবে বিভক্ত হওয়ায় সাংগঠনিকভাবে তারা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মতিয়ার রহমান প্রতিনিয়ত দলের কোনো না কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামাী লীগ তৈরিতে কাজ করছেন। অ্যাড. মতিয়ার রহমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে গোটা জেলায় একের পর এক উন্নয়নমুলক কাজ করছেন। যার ফলে গোটা জেলায় তার ক্লিন ইমেজ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি লালমনিরহাট জেলায় দলকে সুসংগঠিত করতে দল পরিচালনার ক্ষেতে নতুনত্ব আনয়ন করেছেন। যে কারণে লালমনিরহাট সদর আসনে নেতা-কর্মীদের আস্থা অর্জনে অনেকটাই সফল অ্যাড. মতিয়ার রহমান। বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মীদের অভিমত, দল মনোনয়নের ক্ষেত্রে মতিয়ার রহমানকে মুল্যায়ন করবে। তিনি মনোনয়ন পেলে বিএনপির দুর্গ ভেঙে আওয়ামী লীগের জয় অনেকটা সহজতর হবে। তবে আওয়ামী লীগের এমপি ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ দুলালের দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে দেখা মিলছে না।

এ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু উপমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সদর উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি দলকে সুসংগঠিত করতে ছুটে বেড়াচ্ছেন পথ থেকে পথে। তার ব্যতিক্রম সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তিনি ব্যক্তি হিসেবে ফ্যাক্টর হবেন।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আগামী দিনে এ জেলার মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের সঙ্গে থাকবেন।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম মিঠু বলেন, জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে এ জেলায় অনেক বেশি শক্তিশালী। আগামীতে আমরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া আসনগুলো উদ্ধারে চেষ্টা করব।

লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাব্বি দুলু বলেন, লালমনিরহাট জেলার মানুষ আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ। আগামী নির্বাচনে তারা বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নেবেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস