আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী বিএনপির একক

শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ি উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত। জেলার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩৮ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭১১। সব মিলিয়ে জামালপুর-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯। এটি জামালপুরের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন। স্বাধীনতার পর এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম থাকায় আওয়ামী লীগ মাঠ পর্যায়ে দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পেতে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা স্ব স্ব অবস্থান সুদৃঢ় করতে যে যার মতো এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের এক সময়ের বর্ষীয়ান নেতা মরহুম অ্যাডভোকেট মতিয়ুর রহমান তালুকদারের পুত্র সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সানোয়ার হোসেন বাদশা, ঢাকা তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ, তার ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মৌলনা নুরুল ইসলাম, ভিপি খোরশেদুল আলম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান এলিন, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি প্রয়াত আবদুল মালেকের পুত্র প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন, আমেরিকান প্রবাসী এবং আমেরিকান আওয়ামী শাখার সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ তারা ও জিল্লুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সানোয়ার হোসেন বাদশা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মৌলানা নুরুল ইসলাম ছাড়া বাকি ৬ জন ঢাকা থেকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে এলাকায় এসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগাম নির্বাচনী গণসংযোগে নেমে পড়েছেন। তবে এ আসনের আগাম নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাওয়ায় প্রায়ই এক গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অপর গ্রুপের দ্বন্দ্ব কলহ লেগে আছে। এ আসনে আওয়ামী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব চরম আকারে পৌঁছেছে। তবে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নূরুল ইসলাম, সরিষাবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা এলাকায় অবস্থান করে এলাকার গ্রামগঞ্জে নির্বাচনী প্রচার কাজে এগিয়ে রয়েছেন।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ি আসন থেকে আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হন ডা. মুরাদ হাসান। কিন্তু তিনি মহাজোট সরকারের আমলে সরিষাবাড়ির কোথাও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। এমনকি তিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সমন্বয়ে ব্যর্থ হওয়ায় সরিষাবাড়ির আওয়ামী রাজনীতিতে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। আর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে মহাজোটের আসন ভাগাভাগিতে এ আসনে প্রার্থী হন জাতীয় পার্টির (জাপা) মামুনুর রশিদ জোয়ারদার। বিএনএফ প্রার্থী মোস্তফা বাবুলের চেয়ে সামান্য ভোটে গত সংসদ নির্বাচনে মামুনুর রশিদ জোয়ারদার এমপি হন।

অপরদিকে বিএনপির একক সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রভাবশালী জনপ্রিয় নেতা, সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ভাতিজা সরিষাবাড়ি উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম পরাজিত হয়েও এলাকায় ব্যাপক গণযোগাযোগ অব্যাহত রাখায় বর্তমানে সরিষাবাড়ির সর্বত্রই তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করে আগাম নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর নির্বাচনে পরাজয়ের পরও দলের মাঝে নিজেকে অধিক মাত্রায় সম্পৃক্ত রাখার পুরস্কার হিসেবে বর্তমানে তিনি জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সরিষাবাড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

এ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি মামুনুর রশিদ জোয়ারদার এবং বিএনএফের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন বিটিভির জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোস্তফা বাবুল। মোস্তফা বাবুল গত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) বর্তমান এমপি মামুনুর রশিদ জোয়ারদারের কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।

সরকারি দল এবারের সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি ধরে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগ করে বিএনপি হারানো আসন ঘরে তুলে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.