আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগ নিতে পারে বিএনপি

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে সাংগঠনিক দিক দিয়ে কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামী লীগ। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে বিএনপি। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি রাজিউদ্দীন আহমেদ (রাজু)। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসন থেকে আওয়ামী লীগের ব্যানারে পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক আলোচিত-সমালোচিত। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা প্রকাশ্যে তার গুণগান করলেও কোন্দলের কারণে ডুবতে বসেছে এই আসনের আওয়ামী লীগ। বয়সের ভারে তিনি আজ ন্যুব্জ। তার পরও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা করছেন। সে লক্ষ্যে নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে মনোনয়ন দাবি করছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার। তিনি নিয়মিত এলাকায় রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করছেন। কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদও মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুল হকও মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় পরিচয়ে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমানও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কোনো কারণে রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু নির্বাচন না করলে তার ছোট ভাই রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু কিংবা তার ছেলে রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদ পার্থ মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে পারেন বলে জানা গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বের কারণে এত মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে বিএনপি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইবেন কেন্দ্রীয় নেতা এমএ সাত্তার।

রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসাইন বলেন, দলে সমন্বয়ের অনেক অভাব আছে। অনেকেই মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন। তারা সবাই বলছেন তারা নমিনেশন পাবেন। দলগত কোনো কোন্দল নেই, ব্যক্তিগত কোন্দল আছে। কোন্দল যে একেবারে নেই তাও অস্বীকার করতে পারব না। এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি এর সুযোগ নিতে পারে ।

এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান এমপি রাজিউদ্দীন আহমেদ (রাজু), আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুল হক, ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান ও রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ছোট ভাই সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। বর্তমান এমপি রাজুর ছেলে রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদ পার্থও মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ আসনে বিএনপির দলীয় কোনো কোন্দল না থাকায় অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ আসনে এবার শক্ত অবস্থানে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি এ. কে. নেছার উদ্দিন। তিনি নিয়মিত এলাকায় রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করছেন ও গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। রায়পুরাবাসীর ভালোবাসা পেতে ছুটছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। পৌঁছে দিচ্ছেন খালেদা জিয়ার ভিশন-৩০ বার্তাও। বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তরুণ ছাত্রনেতা শাহ আলমও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি এ. কে. নেছার উদ্দিন বলেন, এ আসনে বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই। মানুষের ভালোবাসা দেখে বুঝতে পারছি মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা মুক্তি চায় অত্যাচার আর নিপীড়ন থেকে। ২০০৬ সালে আমি বিএনপির ব্যানারে মনোনয়ন পেয়েছিলাম। এবার যদি দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আর ‘দেশনেত্রী’ আমাকে মনোনয়ন দেন আর আমি বিজয়ী হতে পারি তাহলে এই রায়পুরাবাসীর ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাব। বেকার যুবক ভাইদের জন্য এই রায়পুরায় একটি ইপিজেড স্থাপন করব।

এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এ. কে. নেছার উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তরুণ ছাত্রনেতা শাহ আলম।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ