আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত

কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের কাজী অফিস গলির মসজিদের সামনে এই জানাজা হয়। এর আগে এই গলিতে আইয়ুব বাচ্চুর যে স্টুডিও ছিল সেই ভবনের সামনে তার মরদেহ রাখা হয়।

তৃতীয় নামাজে জানাজার জন্য আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আইয়ের ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চ্যানেল আইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ আবারও স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে নেয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার বাদ জুমা দুপুর ২টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাজায় অংশ নেন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া তার ভক্ত অনুরাগী, সহশিল্পী, চলচ্চিত্র অঙ্গনের গুণীজনরা শেষ শ্রদ্ধা জানানো শেষে জানাজায় অংশ নেনে। ভক্ত অনুরাগীদের অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রায় অর্ধেকটা পূর্ণ হয়ে যায়।

এর আগে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ১০টা ২৫ মিনিট থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয় আইয়ুব বাচ্চুকে।

জানা গেছে, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইয়ুব বাচ্চুর শেষ ঠিকানা হচ্ছে চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারের পারিবারিক কবরস্থান। এ বুঝি সুরের জাদুকরের শৈশবে ফেরা। কারণ, এই এনায়েত বাজারেই তার জন্ম আর বেড়ে ওঠা।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাসভবন থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হলে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে এ রকস্টারের বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তাকে ভারতীয় উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট বলা হয়ে থাকে।

আইয়ুব বাচ্চু চলে গেলেও তার গান ও গিটারের ছয় তারের সুর বাঙালি শ্রোতাদের হৃদয়ে ধ্বনিত হবে আজীবন। ব্যান্ড দল এলআরবির লিড গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং প্লেব্যাক শিল্পী।

দুই সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছে বাবার মৃতদেহ। কানাডায় রয়েছেন আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আহনাফ তাজোয়ার। তিনি পরিসংখ্যান বিষয়ে পড়াশোনা করছেন ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ায়। মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। আজ দুজনেই উড়ে আসছেন বাবাকে শেষ দেখা দেখতে। শনিবার দুপুরে মায়ের কবরেই সমাহিত করা হবে আইয়ুব বাচ্চুকে।

বৃহস্পতিবার আইয়ুব বাচ্চুর আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মানবকণ্ঠ/এম