অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হচ্ছে

বরিশাল-খুলনার মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অবশেষে নির্মাণ হতে যাচ্ছে ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু। চীনের আর্থিক সহযোগিতায় কচা নদীর ওপরে এ সেতুটি ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাস্তবায়ন করা হবে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২১ কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। তা যাচাই-বাছাই করতে সম্প্রতি পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাকি কাজ শেষ করে আগামী একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, রাজাপুর-নৈকাঠি-বেকুটিয়া-পিরোজপুর সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। তার পরও কচা নদীতে ফেরিতে করে জনগণকে তাদের পারাপার হতে হয়। কিন্তু বেশি যানবাহন যথাসময়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিনই ফেরিঘাটে যানজট লেগেই থাকে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে সহজ সড়ক যোগাযোগ ও পায়রা বন্দরের সুবিধা কাজে লাগাতে পারা যাচ্ছে না। এসব বিবেচনা করে সরকার উদ্যোগ নেয় কচা নদীতে ‘রাজাপুর-নৈকাঠি-বেকুটিয়া-পিরোজপুর সড়কের ১২তম কিলোমিটারে বেকুটিয়ায় কচা নদীর ওপর ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের। তা বাস্তবায়ন করতে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার দিচ্ছে ৬৫৪ কোটি টাকা। বাকি ১৬৭ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করা হবে। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি সময়ে। চীনের এ অর্থ পেতে গত বছরের ১৬ জুনে সওজ অধিদফতর এবং চীন সরকারের মধ্যে ৫২৮ মিলিয়ন (৫২ কোটি ৮০ লাখ) আরএমবি অনুদান সহায়তা প্রদানে মিনিটস অব মিটিং সই হয়। এর মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন আরএমবি অনুদানের জন্য গত বছরের ৭ এপ্রিল ইআরডির সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। তবে বাকি ২২৮ মিলিয়ন আরএমবি প্রদানে এখনো চুক্তি সই হয়নি বলে সূত্র জানায়।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজ হচ্ছে- নদী শাসনসহ মেইন ব্রিজ ও ভায়াডাক্ট নির্মাণ হবে ১ হাজার ৪৯৩ মিটার। ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ হবে সাড়ে ১৬ মিটার। ভূমি অধিগ্রহণ হবে ১৩ দশমিক ৩২ হেক্টর এবং ভূমি উন্নয়ন করা হবে ৩৭ হাজার ২৪ বর্গমিটার। এ ছাড়া টোল প্লাজা নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজও করা হবে। প্রকল্পে সড়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৮৩০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়। আর বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের জুনে। তবে পরিকল্পনা কমিশনে ১৫ মে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় সার্বিক দিক বিবেচনা করে ৮২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা প্রক্কলন করা হয়েছে। আর বাস্তবায়নকাল পাল্টে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ডিপিপি পুনর্গঠন করতে বলা হয়। তা পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিলে সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ বলেন, এ সেতুটি নির্মাণ করা হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বরিশাল ও খুলনার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হবে। এতে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থারও উন্নয়ন হবে। তাই এটি অনুমোদন বিবেচনাযোগ্য বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

সূত্র আরো জানায়, কচা নদীর ওপর পিরোজপুর জেলা সদর ও কাউখালী উপজেলায় এ সেতুটি নির্মাণ করা হলে দেশের ৩টি সমুদ্র বন্দরসহ চট্টগ্রাম-বরিশাল-খুলনা বিভাগের মধ্যে সরাসরি সহজ সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। বরিশাল-খুলনা ১০৫ কিলোমিটার সড়কপথে আর কোনো ফেরি পারাপারের বিড়ম্বনা থাকবে না। পিরোজপুর ও ঝালকাঠি পাশাপাশি দুই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সহজ হবে। পিরোজপুর জেলা সদরের সঙ্গেও বিচ্ছিন্ন ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী ও মঠবাড়িয়াসহ নদীর পূর্ব তীরের উপজেলার লাখ লাখ মানুষ খুব সহজেই জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারবেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ