অমিয় চক্রবর্তী

অমিয় চক্রবর্তী ১৯০১ সালের ১০ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। বাংলা আধুনিক কবিতার ইতিহাসে ত্রিশের দশক এবং বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, জীবনানন্দ দাশ ও বিষ্ণু দে’র সঙ্গে কবি অমিয় চক্রবর্তীর নাম অবিনাশী বন্ধন ও সমসাময়িকতার বিস্ময়ে জড়িয়ে আছে। অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২১ সালে বিএ পাস করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। ১৯২৬ সালে তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি এবং সৃজনশীল গদ্যশিল্পী অমিয় চক্রবর্তী শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৩৩ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজে যোগ দেন এবং ১৯৩৭ সালে সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিফিল ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা করেন। ১৯৪৮-১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত হাওয়ার্ড, বস্টন ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক প্রাচ্য ধর্ম ও সাহিত্যে অধ্যাপনা কাজে নিয়োজিত ছিলেন। কবি ইয়েটস, জর্জ বার্নার্ড শ, আলবার্ট আইনস্টাইন, রবার্টফ্রস্ট, আলবার্ট সোয়ইটজর, বোরিস পান্তেরনাক, পাবলো কাসালস্ প্রমুখ বিশ্ববরেণ্য লেখকদের সঙ্গে তার ছিল অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। প্রায় সব মহাদেশের অসংখ্য দেশে নানাবিধ কর্মসূত্রে তিনি ভ্রমণ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে বক্তৃতা দিয়েছেন। এ কারণে অমিয় চক্রবর্তীর কবিতায় আন্তর্জাতিক বিশ্বপরিবেশের অনেক ভৌগোলিক স্থানের নাম, বর্ণনা ও চিত্র লক্ষ্য করার মতো। তার কবিতা বিশ্বময়তাকে ধারণ করেছে; এটি তার কবিতাকে দিয়েছে বিশিষ্টতা। এ ছাড়া তার কবিতায় আছে এ অঞ্চলের চিরায়ত বিষয় মরমি সুর ও আধ্যাত্মিকতা। অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে-উপহার; খসড়া; এক মুঠো; মাটির দেয়াল; অভিজ্ঞান বসন্ত; পারাপার; পালাবদল; ঘরে ফেরার দিন; হারানো অর্কিড; পুষ্পিত ইমেজ; অমরাবতী; অনিঃশেষ; নতুন কবিতা; চলো যাই এবং সাম্প্রতিক। তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তার ৯টি বই রয়েছে। কবিতার জন্য তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার; ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘দেশিকোত্তম’ এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৮৬ সালের ১২ জুন শান্তিনিকেতনে অমিয় চক্রবর্তী মৃত্যুবরণ করেন।
মমতা হক