অপরাধ প্রতিরোধে এবার পুলিশের উঠান বৈঠক

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট :
সমাজে সচেতনতা বাড়লে সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সে কারণে সামাজিক অপরাধ, অপরাধের ধরন ও প্রতিকারে প্রশাসনকে সহযোগিতা, প্রশাসনের করণীয় কী? এ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উঠান বৈঠক শুরু করেছে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ বিভাগ। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, জুয়া ও বাল্যবিয়েসহ সব সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় চলছে পুলিশের উঠান বৈঠক। বৈঠকগুলোতে স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হয়ে পুলিশ বিভাগ সহযোগিতা করছে। পুরো বিষয়গুলো নিয়মিত তদারক করছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এস এস রশিদুল হক। শুধু পাড়া-মহল্লায় নয়, স্কুল-কলেজ হাটবাজারসহ সর্বস্তরে চলছে জনসচেতনতামূলক উঠান বৈঠক। সামাজিক বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশসহ জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সেবা পাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কেও জানানো হচ্ছে ওই উঠান বৈঠকে।
ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ সামাজিক অপরাধ সংগঠিত হলে পুলিশি সেবা পেতে ৯৯৯ নম্বরে কল করার আহ্বান জানানো হচ্ছে এসব উঠান বৈঠকে। শুধু তাই নয়, মাদক জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশকে তথ্য দিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক খন্দকার আবু আল মাহমুদ জানান, নিয়মিত কাজ শেষ করে ওই পাড়ায় বা মহল্লার লোকজনকে ডেকে নিয়ে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রথম দিকে নারীরা ভয়ে ভিড়তে না চাইলেও বৈঠক শেষে তারা নিজেরা বৈঠকের তথ্য আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এভাবে বাড়ছে জনসচেতনতা।
হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা জাওরানী গ্রামের সাইদুল ইসলাম, আবু বক্কর ও সামসুল আলম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের নম্বর খুঁজতে আগে সবকিছুই পুড়ে যেত। পুলিশের এ বৈঠকে জানা হলো- জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেই জরুরি সেবা পাওয়া যাবে। এটা সরকারের ভালো উদ্যোগ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক বলেন, মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও বাল্যবিয়েসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ দমনে পাড়ায় মহল্লায়, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও হাট-বাজারসহ সব পাবলিক প্লেসে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। মূলত জনসচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ। লালমনিরহাটকে মাদকসহ সব সামাজিক অপরাধ মুক্ত আদর্শ জেলা গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।