অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্য আত্মাহুতি দিলেন স্বামী

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্য আত্মাহুতি দিলেন স্বামী

রিয়া ও রিফাত, একটা সময় দুজনেই বন্ধু ছিলেন। পরে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। আর সেই প্রেম থেকে বিয়ে করেন বছর দুয়েক হলো। আর কদিন পরেই প্রথম সন্তানের মুখ দেখতেন তারা। সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন রিয়া। প্রথম বাবা হওয়ার উন্মাদনা কাজ করছিল রিফাতের মধ্যেও।

কিন্তু পুরান ঢাকার চকবাজারের আগুন কেড়ে নিল সব কিছু। রিয়া-রিফাতের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্নও পুড়ে ছারখার হয়ে গেল। সঙ্গে তারাও।

চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের ‘ওয়াহিদ ম্যানশন’ ভবনের তৃতীয় তলায় স্ত্রী রিয়াকে নিয়ে থাকতেন রিফাত। বুধবার রাতে আগুন লাগার পর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ভবন থেকে নামতে পারেননি, তাই নামেননি রিফাতও। গর্ভের সন্তানসহ দুজনেরই আগুনে পুড়ে হয়েছে করুণ মৃত্যু।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে মরদেহ শনাক্ত করতে আসা রিয়া ও রিফাতের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

রিয়া ও রিফাতের বন্ধু আল-আকসার সাজিদ জানান, ওয়াহিদ ম্যানশন ভবনের যে বাসায় রিয়া ও রিফাত থাকতেন তা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে তাদের না পেয়ে সোজা ছুটে এসেছেন হাসপাতাল মর্গে। তিনি জানান, চেহারা দেখে মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সাজিদ জানান, রিয়া অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ছাড়াও নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিল। আগুন লাগার পর রিফাতের পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। কিন্তু রিয়াকে নিয়ে নামতে পারছিল না বলেই রিফাতও নামেননি। দুজনই পুড়ে মারা যায়।

তিনি জানান, এ খবর শুনে রিয়ার পরিবারের লোকজনও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রিফাতের পরিবারের লোকজন এসেছেন। তারা লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত লাশ শনাক্ত করা যায়নি।

রিয়া ও রিফাতের স্বজনদের মতো এমন আরো অনেকের চোখের জলেই সিক্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আহাজারি আর হাহাকারে ভারি হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস। সেখানে অপেক্ষমাণ মানুষেরা জানেনও না, অন্তত স্বজনদের মরদেহটির সন্ধানও তারা পাবেন কি না।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবনে বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে আগুন লাগে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের ভয়াবহতা কিছুটা কমলেও আবারও বেড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট একযোগে কাজ করে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

মানবকণ্ঠ/এসএস