অনুমোদনহীন সংস্থার প্রতিবেদন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার অনুমতি নেই তারা প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে, এমন অভিযোগ তুলেছেন রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-খুলনা টু গাজীপুর’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বক্তারা বলেন, কমিশনের অনুমোদনের বাইরের কাউকে বৈধ পর্যবেক্ষক বলা যাবে না। যেহেতেু এই সংস্থাগুলোর সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাথমিক তথ্য নেয়ার সুয়োগ নেই, তাই তাদের তথ্য সূত্র নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত সেমিনারে সংগঠনের চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সবাই অবাধ ও সুষ্ঠু বলছে। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপসহ অন্যান্য নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থার মতে, এই নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক। কিন্তু কিছু সংগঠন, যাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার অনুমতি নেই তারা প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয়কে উন্নয়নের প্রতি জনগণের রায়ের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৎ, বলিষ্ঠ এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। আসন্ন গাজীপুরসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আবার উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ১২০টি সংগঠন আছে যাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার অনুমতি আছে। ন্যূনতম ৩ দিন আগে তাদের আবেদন করে অনুমতি নিতে হয়। কমিশন বৈঠক করে অনুমোদন দেয়ার পরেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এর বাইরে কাউকে বৈধ পর্যবেক্ষক বলার সুযোগ নেই। নির্বাচন কেন্দ্রের ৪শ’ গজের বাইরে থেকে তারপর কোনো সংগঠন যদি কোনো মন্তব্য করে তা অসম্পূর্ণ বলে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে, ধূম্রজাল তৈরি করে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ক্ষেত্র তৈরি করে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে ভূমিকা পালন করতে হবে।
সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রকাশক ভাষাসৈনিক জাকারিয়া চৌধুরী, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোবিন্দ চক্রবর্তী, অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মিসবাহ কামাল, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ।