অনিয়মের অভিযোগ ছাড়াই ঢাবি ‌‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা সম্পন্ন

কোনো ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত গ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গতবছর সিআইডির মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতদের একটি চক্রকে আইনের আওতায় আনার জন্য এবার কোনো ধরনের জালিয়াতির খবর পাওয়া যায়নি বলে উপাচার্য সাংবাদিকদের জানান।

উপাচার্য বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম সর্বোচ্চ সতর্ক ছিল। এ বছর আমাদের ঝুঁকি অনেক কম হয়েছে কেননা, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে একটি ডিজিটাল জালিয়াত চক্রকে আইনের আওতায় এনেছি। ফলে এটা একটা বড় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করেছে। আমি কয়েকটি হল ঘুরে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রশ্নপত্রের মান, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ নিয়ে তারা সন্তুষ্ট বলে আমাকে জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি।

উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে এসে এমবিএ ভবনের ১০ তলায় দুটি কক্ষ পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। কক্ষ পরিদর্শন শেষে ডিন কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

পরীক্ষা শেষে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী। সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পরীক্ষা সেভাবে নিতে পেরেছি। অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো ধরনের অঘটন বা অনিয়মের খবর নেই। সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত। যে কোনো অনিয়ম ঠেকাতে আমরা তো আছিই, তার পাশাপাশি আমরা সব সময়ই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহায়তা কামনা করি।
অন্যদিকে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে ঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ, টিএসসি কেন্দ্রিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন এলাকার স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে ৫৪টি কেন্দ্রে শুক্রবার সকাল ১০টায় এই পরীক্ষা শুরু হয়। এক ঘণ্টার এই পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের। বরাবরের মতোই মোবাইল ফোনসহ টেলিযোগাযোগ করা যায় এমন যে কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবার। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরে তল্লাশি করে পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দেয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করে।

গ ইউনিটের ১ হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে এবার ভর্তিচ্ছুক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৬০ জন। অর্থাত্ প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তি লড়াইয়ে অংশ নেন ২১ জন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের লাগোয়া কেন্দ্রগুলোর বাইরে এবার লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজে পরীক্ষা নেয়ার আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ইউনিটে ৭ হাজার ১২৮টি আসনের বিপরীতে এবার মোট ২ লাখ ৭২ হাজার ৫১২ জন আবেদন করেছে। এই হিসাবে প্রতি আসনের বিপরীতে পরীক্ষার্থী থাকছেন ৩৮ জন। ২১ সেপ্টেম্বর খ ইউনিট, ২৮ সেপ্টেম্বর ক ইউনিট, ১২ অক্টোবর ঘ ইউনিট, ১৫ সেপ্টেম্বর চ ইউনিটের সাধারণ জ্ঞান অংশের এবং ২২ সেপ্টেম্বর চ ইউনিটের অঙ্কন অংশের ভর্তি পরীক্ষা হবে। ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস ও ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (admission.eis.du.ac.bd) থেকে জানা যাবে।