অনিন্দ্য সুন্দর ‘ভাড়াউড়া লেক’

যতদিন যাচ্ছে পর্যটন শহর হিসেবে শ্রীমঙ্গলের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। আগে শুধু চায়ের রাজধানী হিসেবে শ্রীমঙ্গলের খ্যাতি থাকলেও এর পাশাপাশি বর্তমানে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এর নাম উঠে এসেছে পর্যটকদের ডায়েরিতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলে রয়েছে সবুজে ঘেরা চায়ের বাগান, রয়েছে চা কন্যা ভাস্কর্য, রেইন ফরেস্ট লাউয়াছড়া, খাসিয়া পান পুঞ্জি, মিনি চিড়িয়াখানা, হাইল হাওর, বধ্যভূমি-৭১, ডিনস্টন সেমেট্রি, নীলকণ্ঠ চা কেবিন, মনিপুরী পল্লী ইত্যাদি বিশেষ পর্যটন স্থান। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলে ছোট-বড় মিলিয়ে নাম না জানা আরো অনেক পর্যটন স্থান রয়েছে। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু সৌন্দর্যের হাতছানি পরিলক্ষিত হয়। প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন স্থানগুলোতে হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মিলনমেলা দেখা যায়।

বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন স্পটগুলোর সঙ্গে নতুন আরেকটি পর্যটন স্পট যোগ হয়েছে। সেটি হলো ‘ভাড়াউড়া লেক’। লেকটি শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ছয়-সাত কিলোমিটার দূরে ভাড়াউড়া চা বাগানে অবস্থিত। সবুজে ঘেরা চার পাশে চা বাগান আর মধ্যখানে এই বিশাল লেক (হ্রদ)। ইতিমধ্যে লেকটির সৌন্দর্যের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসছে লেকটির সৌন্দর্যের কথা। স্থানীয় লোকজনসহ অনেক পর্যটক এখন এই লেকটিতে বেড়াতে আসেন প্রতিনিয়ত।

চা বাগানের শ্রমিকদের পাড়া থেকে বেরিয়ে গেলেই দেখা যায় ঘন সবুজের বুকে অবস্থিত এই লেক (হƒদ)। লেকের দু’ধারে যতদূর চোখ যায় দেখা যায় শুধু চা বাগান। ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে, লেকের দক্ষিণ-পূর্বে পাঁচ তারকা মানের হোটেল গ্র্যান্ড সুলতানের সীমানা, পশ্চিমে মূল ভাড়াউড়া চা বাগান, উত্তরে রেললাইন ও পূর্বে লাউয়াছড়া। লেকের একেবারে টিলার মাথায় বামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবতা শিব ঠাকুরের মন্দির। টিলার চুড়ায় দাঁড়িয়ে প্রায় দুই একরের হ্রদ পুরোটা দেখা যায় না। সামান্য কষ্ট করে শেষ পর্যন্ত গেলে বাড়তি পাওনা হিসেবে মিলবে আরো খানিকটা মিঠে পানির অভিনন্দন। চারদিকে চা পাতার অবাধ্য ইশারা। পানিতে বাতাসের দোলায় ঝিরিঝিরি কারুময় ঢেউ। সব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত পর্যটন স্থানগুলোর সঙ্গে ভাড়াউড়া চা বাগানে অবস্থিত এই লেকটি (হ্রদ) হয়ে উঠছে অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং গ্রিনলিফ গেস্ট হাউস অ্যান্ড ইকো ট্যুরিজমের স্বত্বাধিকারী এস কে দাশ সুমন জানান, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রসমূহ দেশ এবং বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে নতুন নতুন দর্শনীয় স্থানগুলো। বৃহত্তর সিলেটের বেশ কিছু দর্শনীয় স্থানের সঙ্গে শ্রীমঙ্গলের মনোরম পরিবেশে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য নিয়ে ভাড়াউড়া লেক একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চা বাগানের পাদদেশে অবস্থিত এই লেকটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি নজরদারি বাড়ানো হলে বাড়বে যেমন দর্শনার্থীর সংখ্যা তেমনি সরকারি রাজস্ব আদায় হবে দ্বিগুণ।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ