অনিন্দিতা ভৌমিক-এর কবিতা

আবছায়া, যে শহর…

(১১)
বয়স লেগে থাকছে হলুদ পাতার গায়ে
মুহূর্তের জন্যে তাকে মেনে নেওয়া যায়
ঠান্ডা চোখের কাছে খুলে রাখা যায়
তার বহমান ক্ষত

হয়তো খুব পরিচিত কোনো ঠোঁটের অবয়ব
হালকা রিফ্লেক্সের ভেতর
ফিকে হয়ে উঠছে তার সেলাইটুকু
অথচ সহজতাও কেবল ধারণামাত্র
হিসেবের পাতায় যেভাবে
নির্মাণ জুড়ে রাখছে কেউ
আধভাঙা ঘুমের পরতে
যোগাযোগহীনতা…

আর অবসাদ জমে থাকছে
হলুদ পাতার গায়ে
নিচু হয়ে যাকে কুড়িয়ে নেওয়া যায়
বুক পকেটে গুঁজে রাখা যায়
তার শিরা উপশিরা

(১২)

যেটুকু দেখা যাচ্ছে
তাকেই প্রতিফলন বলছি
সোজাসুজি নেমে যাওয়া ধাতব গন্ধ
চাদরে পা মুছে
ভাঁজে ভাঁজে গুছিয়ে নেয় স্থিরতা
খসে পড়া ত্বকের ভেতর
সে আমার চোখ খুলে দেয়
মাঝরাতে নখের আঁচড়ে খুলে দেয়
জিভের বিষন্ন ওঠানামা

তারপর ছায়া করে আসে
মৃতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে
এইসব বেঁকে যাওয়া মৌনতা
খুঁটে নেয় হাড়গোড়
মাংসের বিপরীতে কেটে রাখা
দীর্ঘ রোঁয়া রোঁয়া পাতাদের

(১৩)

অথচ এই লেখা ব্যবহার হয়েছে মাত্র
১৪ বছর পুরনো কুয়াশার নিচে
যেভাবে দাগসহ ঘুমের স্তর পড়ে থাকে
আর পাঁজরের ডানদিক বরাবর
উঁচু হয়ে ওঠা শরীর
সমস্ত ধারণার আগে বিছিয়ে দিচ্ছে
খরখরে এক আয়নার প্রস্তাব
যার অনভ্যাস ফিরে ফিরে আসে
শেষবারের মতো
বাষট্টি ঘরের কোনো মানসিক ওয়ার্ডে

(১৪)

লিখে ফেলতে চাইছি
দরজায় ঝোলানো এই প্রতিকৃতি
যা আমার মুখের চেয়ে প্রিয়
চূড়ান্ত পরিচয়ের সময় কুড়িয়ে নিতে থাকে
গলা চোখ আর ঘোলাটে ঠোঁটের মাঝে
চেপে রাখা ঘুমের ওষুধ

আমার শরীর উদ্দেশ্যহীন
আমার ভালো হয়ে ওঠা ডায়েরি
কবিতা লিখে রাখে আঙুলের খাঁজে
জ্বালা জ্বালা করে

টের পাই কাচের দরজার বাইরে
অন্ধকার কেটে ধোঁয়া উঠছে
ঘন লালায় ভরে যাচ্ছে মুখ, হাতের দু’পাশ
***
মানবকণ্ঠ/স্বরলিপি