অনলাইন গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ!

অনলাইন গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ!

তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে অনলাইন সাংবাদিকতার সামনে হুমকির মুখে প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে অনুমান করা যায়, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ হবে অনলাইনে, সেই সময় বেশি দূরে নয়। অনলাইন সাংবাদিকতা বলতে বোঝায় ইন্টারনেট পত্রিকা বা গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা। যুগে যুগে নতুনের কাছে হার মানতে হয়েছে পুরনোকে। নতুনের উত্থানে পুরানের প্রস্থান এটাই স্বাভাবিক। মেনে নিতে কষ্ট হলেও এটাই বাস্তবতা। সারাবিশ্বে আজ ইন্টারনেটভিত্তিক গণমাধ্যমের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশেও ইন্টারনেট যত সহজলভ্য হচ্ছে ততই বাড়ছে অনলাইনের দাপট। পশ্চিমা বিশ্ব বা আমরা যাকে আদর করে বলি ‘ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড’। আর সব কিছুর মতোই তারা বিপ্লব ঘটিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তিতেও। সে বিপ্লবের ছায়া পড়েছে গণমাধ্যমে। আমেরিকার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ এখন অনলাইন সংবাদে নির্ভরশীল। কিন্তু খবর পড়ার জন্য স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব বাড়ায় অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর আর্থিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গবেষকরা। রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজমের (আরআইএসজে) গবেষকদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকেরা বলছেন, স্মার্টফোনে কনটেন্ট সরবরাহ করে অনেক সংবাদমাধ্যমই লাভের মুখ দেখতে হিমশিম খাচ্ছে। মানুষ এখন নিউজ ওয়েবসাইটগুলোর ফ্রন্ট পেজের পরিবর্তে সার্চ ইঞ্জিনে খবর খোঁজে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করা খবর বেশি পড়ছে। এতে বিপাকে পড়ে গেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো। আরআইএসজের বার্ষিক ডিজিটাল নিউজ রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্মার্টফোনে খবর পড়ার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞাপন থেকে আসা আয় কমছে। এখন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা যতটুকু সময় স্মার্টফোনে কাটান তার অর্ধেকই কাটান স্মার্টফোনে খবর পড়ে। এ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে স্পন্সরড কনটেন্টের কারণেও বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের ক্ষেত্রে হতাশা বাড়ছে।

আরআইএসজের গবেষণা পরিচালক রাসমাস ক্লেইস নিয়েলসেন বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষ খবর পড়তে বা খবর কাজে লাগাতে পছন্দ করেন কিন্তু তারা এর জন্য অর্থ খরচ করতে নারাজ। এমনকি খবরের আশপাশে কোনো বিজ্ঞাপন বা খবরের সঙ্গে কোনো স্পন্সর কনটেন্টও দেখতে চান না তারা। এর ফলে যে অনলাইন সাইটগুলোতে বেশি পাঠক যান সেই সাইট কর্তৃপক্ষের কাছেও টেকসই ব্যবসায়িক মডেল অধরাই থেকে যায়।’ কোনো কোনো নিউজসাইটের ভক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ওই সাইটের নিউজ অ্যাপ ব্যবহার করে খবর পড়ে থাকেন। বাকিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ, ইমেইল ও মোবাইল নোটিফিকেশনের মতো ফিচারগুলো থেকে অনলাইনের খবর পড়েন। যদিও দুই-তৃতীয়াংশের বেশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে খবরের অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে দেখা যায়, তার মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহারকারী সপ্তাহান্তে একবার তাতে ঢোকেন। প্রতি দশজনে চারজন স্মার্টফোন গ্রাহক প্রতি সপ্তাহে ফেসবুককে খবর খোঁজা, পড়া, দেখা, বিনিময় করা ও মন্তব্য করার জন্য ব্যবহার করে থাকেন। এরপরেই রয়েছে ইউটিউব। ইউটিউবের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় ফেসবুক ব্যবহার করে কাটান স্মার্টফোন ব্যবহারকারী। তারপর রয়েছে টুইটার। খবর পড়ার কাজে টুইটারের চেয়েও চারগুণ বেশি ব্যবহার হয় ফেসবুক। হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটের মতো নতুন নেটওয়ার্কগুলোও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস