অধ্যাপক জহির আহমেদের ‘জনপরিসরে নৃবিজ্ঞানীর ভাবনা’

একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহির আহমেদের ‌‘জনপরিসরে নৃবিজ্ঞানীর ভাবনা’। বইটি গ্রন্থমেলায় খড়িমাটি প্রকাশনীর ৪৮৫ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।

বইটি সম্পর্কে অধ্যাপক জহির আহমেদ বলেন, আমি একজন নৃবিজ্ঞানীর চোখ দিয়ে দেখেছি বৈষম্য, প্রান্তিকতা আর প্রবল মানুষ ও মতাদর্শের কারসাজিকে। আর এই বিষয়গুলো বিভিন্ন সময়ে দেশে বিদেশে গবেষণা গ্রন্থ ও প্রবন্ধে উপস্থাপন করেছি, প্রকাশ করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে নৃবিজ্ঞানের গবেষণা কাজ গুলোকে আমরা ইংরেজি ভাষায় পুস্তকে সীমায়িত করে রাখি, সাধারণ পাঠকের বোধগম্য করে তুলে ধরিনা। এমন একটা তাগিদ থেকে এই গ্রন্থটি সাধারণ পাঠক, শিক্ষার্থীদের, এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন কর্মীদের কাছে বইটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ভাষা শহীদদের প্রতি স্রদ্ধা রেখে এই বইটি তাই বাংলায় প্রকাশ করছি।

তিনি আরো বলেন, বইটির প্রবন্ধগুলো বিভিন্ন সময়ে ঘটমান বিষয়গুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করে লিখেছিলাম। আমার মনে হয়েছে, বিদ্যাজগতের ভাবগম্ভীর আলোচনার বাইরেও বিষয়গুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনবোধে গুরুত্ব কম নয়। আমার স্মৃতিতে, গবেষণাতে আর তর্কের পরিসরে লেখাগুলো দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়। যেমন— দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক যুগান্তর, আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলা ট্রিবিউন, ও মানবকণ্ঠ পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছে। আবার ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন এবং নিউ এজ পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু লেখা আমি অনুবাদ করেছি। আর কিছু লেখা নোট আকারে আমার ফেস বুক ওয়ালে লিখেছি।

লেখা গুলো সময় ও গুরুত্বের বিবেচনায় ‘খাপছাড়া’ মনে হতে পারে। তবে আমি এটি বলতে পারি, আমার জীবনের বিভিন্ন বাঁকে, বিভিন্ন পরিসরে ওই ‘খাপছাড়া’ বিষয়গুলোকে এক সুতায় বাঁধার চেষ্টা করেছি; বিভিন্ন স্থান ও পরিসরে লেখা কথার সেলুলয়েডে ধরে রাখতে চেয়েছি। আমার কৈশোরের মনন আর বর্তমানের পরিণত নৃবিজ্ঞানের মনন– এর গ্রন্থিবদ্ধতা এই গ্রন্থের বিভিন্ন প্রবন্ধে দেখা যাবে। প্রবন্ধ গুলোর স্বরূপ হল সমাজ ও রাজনৈতিক মনস্কতা–যেখানে রয়েছে আনন্দ, বেদনা, হতাশা, আর অভিজ্ঞতার আঁচড় যার কেন্দ্রে রয়েছে সাধারণ মানুষ। আবছা আর স্পষ্ট ইতিহাসের এই সম্মিলন ঘটেছে একই সূতায়। আমার নৃবৈজ্ঞানিক সংবেদনশীলতা দিয়ে সেই বিষয়গুলো জীবন ঘনিষ্ঠতাকে বুঝতে চেয়েছি।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ