অগ্রজদের কাছ থেকে সংকট মোকাবিলার সাহস পেতাম : ড. বিপ্লব বালা

১৯৫৫ সালে ফরিদপুর জেলায় বিপ্লব বালার জন্ম। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যকলায় অনার্স, মাস্টার্স ও পিএচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং নানা গ্রুপ থিয়েটারে নাট্যপ্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। গুণী এই নাট্য প্রশিক্ষক বর্তমান সময়ের তরুণদের নানা দিক, তার সমসাময়িকদের বিভিন্ন বিষয় এবং তার না বলা কথা নিয়ে গুরুজন পাতার আপন কথায় কথা বলেছেন। পাঠকদের উদ্দেশে ড. বিপ্লব বালার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- মাহমুদ সালেহীন খান

তরুণদের মাঝে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
প্রথমে ভাবা যায়, প্রবীণদের যে শ্রদ্ধা করতে পারে তরুণ… তারা কী তেমন হয়ে থাকেন? অথচ মানুষ তো শ্রদ্ধা করতে চায়, বিশেষ করে তরুণেরা। এই বয়সে শ্রদ্ধা করতে পারলে সেও যে তেমন হয়ে ওঠে। তাদের ভেতরে সেই আকাক্সক্ষাটা চাই। অথচ বাস্তবে তেমন করতে পারার মতো প্রবীণ কি লাখে একজনও মেলে? এই তো তরুণদের খুব বড় এক সংকট, শ্রদ্ধা করার মতো মানুষ সামনে সে দেখতে পায় না- যাকে সে শ্রদ্ধা করে নিজেকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলবে।
তরুণ ও প্রবীণের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
তরুণ-প্রবীণের সম্পর্ক হওয়া উচিত বাউলধর্মের মূল নীতির মতো: পরস্পরকে উচ্চ বলে জ্ঞান করতে পারা, একজন মানুষ হিসেবে প্রতিটি মানুষের প্রতি যা করতে পারাই মানবস্বভাব, মনুষ্যত্ব।
আপনি যখন নবীন ছিলেন তখন নানা ধরনের সংকটের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে হয়েছে আপনি এ থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন?
প্রবীণ কাউকে কাউকে পেয়েছি যাদের মান্য করা যায়, তাদের কাছ থেকে বাঁচার অনেক উপায় পাওয়া যেত; তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়ার মতো। আমার অগ্রজদের দেখানো পথ অনুসরণ করে সংকট মোকাবিলা করার সাহস পেতাম।
বর্তমান তরুণ প্রজন্মর মধ্যে নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এসব অস্থিরতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে বের হয়ে আসতে আপনার পরামর্শ যদি কিছু থাকে।
অস্থির এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে নিজের স্বভাবের ওপর যেন নির্ভর করা যায়, নিজের মন-রুচি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করতে গেলেই স্থির হয়ে নিজের মধ্যে ফিরতে হয়- ‘আপনি যে আছে আপনার কাছে/নিখিল জগতে অভাব কী আছে!’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সন্তানরা বাবা মা থেকে দূরে সরে থাকছে। বাবা মায়ের সঙ্গে সন্তানদের বন্ধুত্ব কতটা জরুরি বলে আপনি মনে করেন।
সম্পর্কটাই তো রাখা যাচ্ছে না, বন্ধুত্ব তো পরের কথা। দিনে দিনে বন্ধু কথাটারই মানে থাকছে না কোনো… সবাই যেন সবার প্রতিযোগী হয়ে উঠছে। অন্যের ভিন্ন স্বভাব-রুচি মানতে পারার শিক্ষা-সংস্কৃতিটাই আর থাকছে না যেন। বাবা-মা সেটা শিখতে পারেনি বলে, সন্তানকেও পারে না শেখাতে, তাই তো দূরে সরে যাচ্ছে তারা।
আপনার সমবয়সী অনেকে আছেন নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন। নানা ধরনের মানসিক টানা পড়েনের মধ্যে আছেন তাদের অণুপ্রাণিত করার জন্য কোনো পরামর্শ আপনার থাকে?
শেষ পর্যন্ত মানুষকে বাঁচতে হয় তো নিজেকেই, নিজের মতো করে। এই সত্য মানতে পারলে নিজেকে আর নিঃসঙ্গ তেমন নাও লাগতে পারে, যদি তিনি থাকতে পারেন নিজের সঙ্গে, নিজের মতো করে সাধ্যমতো।
আপনার সময় এবং এখনকার সময়ের দাবি অনুযায়ী তরুণদের উদ্দেশে যদি কিছু বলতে চান?
তরুণদেরও বাঁচতে হবে তাদের মতো করেই, তার জন্যও কি কাউকে লাগবে না তার, বড় বা প্রবীণদের কখনই আর? ‘মানুষের মন চায় মানুষের মন’ তরুণ রবীন্দ্রনাথের এই কথা আজও কি বড় এক সত্য নয়-তরুণরা সেটা যেন বুঝে-ভেবে দেখে, বড়দের ছাড়া শেষ পর্যন্ত চলবে তো তার?