শিরোনাম :
মানবতাবিরোধী অপরাধ : পলাতক আসামির সংখ্যা বেড়েই চলেছে
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 12:00 AM
জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না
মানবতাবিরোধী অপরাধ : পলাতক আসামির সংখ্যা বেড়েই চলেছেএকাত্তরে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে বেশিরভাগ আসামিই পলাতক রয়েছে। আর ক্রমশ এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পলাতকদের গ্রেফতারে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রসাশনকে একের পর এক নির্দেশনা দেয়া সত্ত্বেও তারা আসামিদের গ্রেফতার করতে পারছেন না। ট্রাইব্যুনালকে বারবার প্রশাসন জানাচ্ছেন তারা চেষ্টা করছেন কিন্তু গ্রেফতার করতে পারছেন না।
এদিকে ৯ জানুয়ারি একটি মামলার শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটরকে উদ্দেশ করে ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বারবার তাগিদ সত্ত্বেও ক্রমশ পলাতক আসামির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কেন রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করতে পারছে না।  
ট্রাইব্যুনাল আরো বলেন, আমরা গণমাধ্যমে সংবাদ দেখি পলাতক আসামি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়! পলাতক আসামিদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করণীয় ও ভূমিকা বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর কি ভূমিকা নিলেন ট্রাইব্যুনাল তাও জানতে চান। এবং সবার ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন।
প্রসিকিউশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, পলাতকদের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল যে আদেশ দিয়েছেন তা কার্যকর হলে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ পলাতকদের গ্রেফতারে একাধিকবার প্রতিবেদন জমা দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যত বা দৃশ্যত কোনো সুফল আমরা পাইনি।
২০১৫ সালের ১৩ মে পলতক আসামিদের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের একটি নির্দেশে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। যাতে পুলিশের উপমহাপরিদর্শকে (ডিআইজি) প্রধান করে ৫ সদস্যের এই কমিটি করা হয়েছে। আর ওই মনিটরিং কমিটিকে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মোতাবেক ৪০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। আর ইতিমধ্যে পুলিশ বেশ কয়েকবার প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়নি প্রশাসন। তারা বরাবরই তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে আসছে ট্রাইব্যুনালের কাছে।
২০১৫ সালের ১৩ মে ট্রাইব্যুনাল স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালত একটি আদেশ দেয়। আদেশটি হলো, ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরে পালাতক সব আসামিকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি মনিটরিং সেল গঠন, সেইসঙ্গে আগামী ৪০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। আদেশে পুলিশের (ডিআইজি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের কম পদমর্যাদা নয় এমন সব (পুলিশ, ডিবি, এসবি ও র‌্যাবের) কর্মকর্তার সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করার জন্য বলা হয়। তারা ওই আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন কিনা সে সংক্রান্ত প্রতিবেদন ৪০ দিন পরপর ট্রাইব্যুনালকে জানাতে বলা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, চৌধুরী মাঈনুদ্দিন, আশরাফুজ্জামান, জাহিদ হোসেন খোকন, সৈয়দ মোহাম্মদ হাছান আলী, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ আবদুল বারী, মো. হারুন, মোহাম্মদ আবুল হাসেম, মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, গাজী আবদুল মান্নান, হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম।








শেষ পাতা'র আরও খবর

অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com