শিরোনাম :
নগদ অর্থের প্রবাহ সংকটে বিমান
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 12:00 AM
আব্দুল্লাহ রায়হান
নগদ অর্থের প্রবাহ সংকটে বিমানপরপর দুই বছর লাভের মুখ দেখার পরও নগদ অর্থের প্রবাহ সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান। বহরে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও নতুন প্রজšে§র উড়োজাহাজ যোগ করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আর্থিক সংকট দেখিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাওনা সারচার্জ মওকুফ চেয়েছে সংস্থাটি। বিমান কর্মকর্তারা বলছেন, সারচার্জ পরিশোধ করা জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিমানের পক্ষে এখন বেবিচকের সারচার্জ বাবদ ১ হাজার ২৫১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। আর্থিক সংকট দেখিয়ে বিলম্বজনিত এ সারচার্জ মওকুফ চেয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করেছে সংস্থাটি। এর আগে কোম্পানি গঠনের পর আরেকবার মওকুফ করা হয়েছিল মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।
বিমান সূত্র জানিয়েছে, বিমানের কাছে বেবিচকের বকেয়া দীর্ঘদিনের। ওই রাজস্ব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত অর্থবছর তথা ৩০ জুন পর্যন্ত অপরিশোধিত মোট বকেয়ার ওপর বেবিচক কর্তৃক (মাসিক ৬ শতাংশ হারে বছরে ৭২ শতাংশ) ১ হাজার ২৫১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। এটি পরিশোধ করা বিমানের পক্ষে কঠিন ব্যাপার।
এ ক্ষেত্রে বিমানের পক্ষ থেকে যুক্তি দেখিয়ে বলা হয়েছে, কোম্পানি গঠনের সময় পুনর্গঠন ও বাণিজ্যিকীকরণের অংশ হিসেবে ২০০৮ সালে ১০টি নতুন প্রজšে§র উড়োজাহাজ কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় বিমান। নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করলেও চলতি মূলধনের অভাবে এর পরিচালন কার্যক্রমে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। কোম্পানিতে রূপান্তরের প্রথম দুই বছর পর লাভজনক অবস্থায় থাকলেও ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত লোকসান হয়। গত দুই বছর বিমান লাভজনক অবস্থানে এলেও পুঞ্জীভূত লোকসান এখনো ৮০৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
সূত্র জানায়, বেবিচকের কাছে বিমান মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে নগদ অর্থের প্রবাহ সংকটে পড়েছে বিমান। এর প্রধান কারণ জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং নতুন প্রজšে§র উড়োজাহাজ কেনার জন্য গৃহীত ঋণের কিস্তি পরিশোধ। এ পর্যন্ত ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এবং ২টি বোয়িং ৭৩৭ এয়ারক্রাফট কেনা বাবদ দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ৮ হাজার ২৯৬.০৩ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে বিমান। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৫১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ঋণের কিস্তি বাবদ পরিশোধের পর গত ৩০ জুন পর্যন্ত বকেয়া ঋণের স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৪৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। প্রতিবছর ঋণের কিস্তি বাবদ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ কারণে বেবিচকের পাওনা সময়মতো পরিশোধে ব্যর্থ হয় বিমান। যদিও ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা বেবিচককে পরিশোধ করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও আরোপিত সারচার্জ পরিশোধ করা বিমানের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অব্যাহত লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই বিমানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত করা হয়। বর্তমানে বোর্ডের আওতায় চলছে এই এয়ারলাইন্স। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের কাজ হচ্ছে কেবল ঋণ, চুক্তি, অডিটসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দাফতরিক প্রয়োজনীয়তা রক্ষা করা। বিমানকে ‘অযাচিত’ হস্তক্ষেপ থেকে স্বাধীন করে কোম্পানির আওতায় ছেড়ে দিলেও অর্থের প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিতে হয় ঠিকই। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিমানের পক্ষ থেকে বেবিচকের সারচার্জ মওকুফের আবেদন করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, এর আগে বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কোম্পানিতে রূপান্তরের পর বিমান ও বেবিচকের দেনা-পাওনা হিসাব করে ২০০৮ সালে বেবিচক কর্তৃক আরোপিত সারচার্জ ১ হাজার ২১৬ কোটি ৯ লাখ টাকা মওকুফ করা হয়। এ ছাড়া মূল বিল বাবদ পাওনা অর্থ ৫৭৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা সরকারের ইকুইটিতে স্থানান্তর করে বেবিচকের পাওনা সমন্বয় করা হয় তখন।
বিমান সূত্র জানায়, পাবলিক লিমিটেড করার পর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৫ কোটি ১৯ লাখ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মুনাফা করতে সমর্থ হয় বিমান। কিন্তু ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ফের লোকসান দিতে শুরু করে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৮০ কোটি, ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৯১ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬০০ কোটি ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২১৪ কোটি টাকা লোকসান দেয় বিমান। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৯৮ কোটি ৮০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা লোকসান দিয়েছে। এর পরের দুই অর্থবছর অবশ্য লাভের মুখ দেখেছে সংস্থাটি। আবার সমস্যাও আছে। চলতি বছর ৮ জানুয়ারি থেকে নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ থেকে সরাসরি কার্গো নেয়া বন্ধ রেখেছে। কার্গো নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ পর্যন্ত বিমানের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ৭০ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী বলেন, বেবিচকের বকেয়া টাকা দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকে। লোকসানের কারণে প্রায় ৭-৮ বছর টাকা পরিশোধই করা যায়নি। এখন ধীরে ধীরে বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে। তাই সারচার্জ মওকুফের আবেদন করেছে বাংলাদেশ বিমান।







শেষ পাতা'র আরও খবর

অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com